আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস আজ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

  


পিএনএস ডেস্ক: আজ (১৮ ডিসেম্বর) সোমবার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ অভিবাসী নারীপুরুষ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী নারী-পুরুষের শ্রম সেসব দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছে। অভিবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সত্ত্বেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সাথে এখনও নানা ধরনের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, জবরদস্তিমূলক শ্রম, শ্রমিকের মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানবপাচারসহ নানা প্রকারের অপরাধ সংগঠিত হয় থাকে।

তিনি বলেন, এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, আইওএম, আইএলও এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০১৭ উদযাপিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। দিবস উপলক্ষে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসরত অভিবাসীগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই জীবন ও জীবিকার প্রয়োজন ছাড়াও নানা কারণে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসী হয়েছে। মানব সভ্যতার বিকাশে অভিবাসন ও অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে বিশ্বব্যাপী জাতীয়তাবাদী চেতনার উম্মেষ সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বে নগরসভ্যতার সম্প্রসারণের প্রয়োজনে বৃহদাকার কর্মযজ্ঞে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে। এর প্রেক্ষিতে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

এদিকে অপর এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবপাচার বিরোধী আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিশ্বের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রকার হিংসা, ঘৃণা ও বৈষম্যমূলক আচরণের অবসানসহ অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আইন ও বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে সবাইকে সচেষ্ট থাকার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনিা আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে রবিবার দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে আশা করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অভিবাসীগণ অন্যতম সহায়ক শক্তি। অভিবাসীদের প্রেরিত অর্থে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধকরণে অভিবাসী কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আমরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছি। বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। এ ব্যাংক হতে অভিবাসী কর্মীগণ সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারছেন। রেমিটেন্স প্রেরণেও সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশনের ফলে বিদেশগামী কর্মীদের সেবাপ্রাপ্তি এবং নিয়োগকারী এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এসকল পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ হতে কর্মী প্রেরণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এ পর্যায়ে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় অভিবাসন বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ গৃহীত গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে চলমান কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে এবারের আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস একটি ভিন্নমাত্রা অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বে বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসরত অভিবাসী ভাইবোন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং এ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

পিএনএস/আনোয়ার


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech