এতো পুলিশের প্রয়োজন নেই : প্রিয়াঙ্কা - জাতীয় - Premier News Syndicate Limited (PNS)

এতো পুলিশের প্রয়োজন নেই : প্রিয়াঙ্কা

  

পিএনএস ডেস্ক : ‘কোন পথ দিয়ে এসেছ? তোমরা কি এই বিশাল নাফ নদ পেরিয়ে এপারে এসেছ?’ রোহিঙ্গা শিশুদের কাছ থেকে এভাবেই আজ তাদের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শোনেন বলিউড অভিনেত্রী ও ইউসিফের শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উখিয়ার রয়েল টিউলিপ হোটেল থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া টেকনাফ সীমান্তে হাড়িয়াখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান।

এরপর তিনি পাঁচ মিনিট হেঁটে নাফ নদের তীরে যান, যেখান দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সেখান থেকে আসার সময় একটি মসজিদের সামনে ১৫ রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে কথা বলেন প্রিয়াঙ্কা। এসময় রোহিঙ্গা শিশু ইমান হোসেনকে নাফ নদের দিকে হাত দেখিয়ে বলেন, ‘তোমরা কি এ পথ দিয়ে এসেছ? তোমার জামা নেই?’

জবাবে শিশুটি মাথা নেড়ে বলে, ‘হুম, এই নদ দিয়ে নৌকায় করে এপারে এসেছি। গায়ে দেওয়ার জন্য কোনো জামা কাপড় নেই।’ পরে আরও ১৪ রোহিঙ্গা শিশুকে ডেকে নেন এই বলিউড তারকা। তাদের অনেকের শরীরে জামা ছিল না। তখন তিনি সবার সঙ্গে হেসে কথা বলেন এবং ছবি তোলেন।

সেখান থেকে আসার সময় মাঝ পথে গাড়ি থামিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের বলেন, এতো পুলিশের প্রয়োজন নেই। তার সামনে-পেছনে বেশি গাড়ি থাকতে নিষেধ করেন প্রিয়াঙ্কা। শুধু একটি গাড়ি রাখতে বলেন। পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা কমিয়ে দেয়।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া টেকনাফে অবস্থান করায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে টেকনাফ মডেল থানা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সকালে টেকনাফ সীমান্তের হাড়িয়াখালি এলাকা পরির্দশন করেছেন। কিভাবে এ পথ দিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করেছে তা তিনি জেনেছেন। তবে হঠাৎ করে তার সফরসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি হাড়িয়াখালি ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ল্যাদা ও হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি বাতিল করা হয়।

ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া ছাড়াও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে রয়েছেন পুলিশ পরির্দশক রাজু আহমেদ ও ইউনিফের কর্মকর্তারা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যেখানে যাচ্ছেন, তার আশপাশে সংবাদকর্মীদেরও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে, সোমবার কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সে সময় বাংলায় কথা বলে সবাইকে চমকে দেন তিনি। শুধু কথাই নয়, রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে খেলেছেনও তিনি, পরিদর্শন করেছেন ইউনিসেফ পরিচালিত একটি হাসপাতাল।

প্রিয়াঙ্কা গত ১৯ মে ব্রিটিশ রাজপরিবারের আমন্ত্রণে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মেরকেলের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সোমবার সকাল ৮টায় তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন।

তিন ঘণ্টা রাজধানীতে অবস্থানের পর সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। এদিন ঢাকা আসতে আসতেই প্রিয়াঙ্কা নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা জানিয়ে দেন। এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছি। আমার ইনস্টাগ্রামে সেখানের সব অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। আমাকে অনুসরণ করুণ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের ভাবা উচিত, আমাদেরও ভাবতে হবে।’

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech