নজরুল জয়ন্তী উদযাপন করলো কণ্ঠশীলন

  

পিএনএস : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামে ১১৯তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘উন্নম মম শির’ শীর্ষক আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কণ্ঠশীলন। ২৫মে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ২২২ নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকার কণ্ঠশীলন কার্যালয়ের ‘রঙধনু সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশীলন সভাপতি গোলাম সারোয়ার, অধ্যক্ষ মীর বরকত, সাধারণ সম্পাদক রইস উল ইসলাম, সহ-সভাপতি আহমাদুল হাসান ও মোস্তফা কামাল।

অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন কণ্ঠশীলনের জ্যেষ্ঠ সদস্য তহমিদ আহমেদ, মীর বরকত ও গোলাম সারোয়ার। আবৃত্তি করেন মোস্তফা কামাল ও একেএম শহীদুল্লাহ কায়সার। নজরুলের সাম্যবাদী কবিতা নিয়ে একটি প্রযোজনা উপস্থাপন করে কণ্ঠশীলনের কয়েকজন শিল্পী। প্রযোজনাটির নির্দেশনায় ছিলেন রইস উল ইসলাম।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে বিদ্রোহ, মুক্তি ও ভালোবাসা। অসংখ্যা গান, ছোটগল্প, উপন্যাস নাটক লিখলেও তিনি কবি হিসেবে বেশি পরিচিত। তিনি বাংলা কাব্যে এক নতুন ধারার জন্ম দেন তা হলো ইসলামী গান বা গজল। নজরুল প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন যা নজরুল সংগীত হিসেবে পরিচিত।

নজরুলের জীবন এক বিদ্রোহ, এক মহা বিস্ময়। ধরা-বাঁধা জীবন ও সাহিত্যধারার বিপরীতে তিনি প্রাণের উচ্ছাসে সামনে এগিয়ে চলেছেন। কখনো মসজিদে ইমামতি, কখনো গানের দলের সাথে যাত্রা, আবার রুটির দোকানে চাকুরি সেখান থেকে দারোগা বাবুর সাথে গিয়ে স্কুলে ভর্তি। গৎবাঁধা পড়াশোনায় মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বমুহুর্তে তিনি চলে গেলেন যুদ্ধে। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে কবির লেখায় আরও বেশি করে প্রকাশ পেতে থাকে বিদ্রোহের জয়গান। সা¤্রাজ্যবাদ ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। সমকালীন সমাজের হিন্দু ও মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জীবন ও সাহিত্য দিয়ে লড়ই করেছেন। সময়ের প্রয়োজনে নজরুল এখনও প্রাসঙ্গিক। বৈষম্যের দেয়ালে বিভক্ত বিশ্ব সম্প্রদায়ে মুক্তির বার্তা রয়েছে তাঁর সৃষ্টিকর্মে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech