জাবিতে নানা সংকটে অতিথি পাখিরা

  


পিএনএস, জাবি প্রতিনিধি: শীত, জাহাঙ্গীরনগর আর অতিথি পাখি যেন একই সূত্রে গাঁথা। শীত আসলেই যেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার তর সয় না অতিথিদের। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শীতের সাথে সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি লেক ইতোমধ্যে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে। তবে অতিথি পাখি আসলেও পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিতকরণে প্রশাসন থেকে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এতে এ বছর ক্যাম্পাসে আসা অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশংকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি লেকে অতিথি পাখি এসেছে। এগুলো হলো- ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের লেক, সুইমিংপুল সংলগ্ন লেক, পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্বরের পেছনের লেক। প্রতি বছর এই লেকগুলোকে অতিথি পাখি থাকার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়। যাতে করে অতিথি পাখি অবাধে চলাচল ও খাবার সংগ্রহ করতে পারে। এজন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না করে অতিথি পাখি আসার কিছুকাল পূর্বে এসব লেকের অভ্যন্তরীণ কচুরিপানা, প্লাস্টিক, আগাছা ইত্যাদি পরিষ্কার করা হয়। সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে লেকগুলো পরিষ্কার করা হয়। দর্শনার্থীরা যেন অতিথি পাখিকে বিরক্ত করতে না পারে সেজন্য লেকের পাশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয় এবং নির্দেশনা সম্বলিত বিলবোর্ড টাঙ্গানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত অতিথি পাখির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে গত দু’বছর অতিথি পাখি এসেছে। মূলত লিজ না থাকায় ওই দুই লেকে পাখি এসেছে। তবে পরিষ্কার না করার কারণে লেকটির এমন অবস্থা হয়েছে যে পাখি থাকার মত পরিবেশ নেই। প্রচুর বড় বড় কচুরিপনায় ভরে গেছে লেকটি। পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ও পরিবহন চত্বরের পেছনের লেকে যেমন কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়। ওই লেকে সেটা করা হয় না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকের কচুরিপনা পরিষ্কার করা হয়নি। বিশাল লেকটির পুরোটাই কচুরিপনায় ভরা। এতে এ বছর অন্য লেকগুলোতে অতিথি পাখি বিচরণ শুরু করলেও এই লেকে আসেনি অতিথি পাখি। এছাড়া ক্যাম্পাসের অন্য লেকগুলোতে অতিথি পাখির বিচরণ শুরু হলেও দর্শনার্থীদের নির্দেশনা সম্বলিত বিলবোর্ড টাঙ্গানো ও পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেকের পাশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ বলেন, লেকের কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নির্দেশনা সম্বলিত কিছু বিলবোর্ড আছে আর কিছু দেয়া হবে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech