১১ দিনে সড়কে হতাহত ৪৬৬, যাত্রীবীমা চালু জরুরি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : যেকোনো উৎসবই নির্মল আনন্দের, বেজায় খুশির। ৮০ শতাংশ মুসলমানের দেশে সেটা ঈদ উৎসব হলে তো কথাই নেই। আর অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এসব উৎসবের আনন্দকে ম্লান হয়ে যায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে।

গণমাধ্যমে খবর এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন। গত ৩০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ৯৫টি দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উক্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১০ জুন ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য তুলে ধরেন। দেশের সড়কগুলোয় সংঘটিত হয় ৯৫টি দুর্ঘটনা। যে ঘটনায় ৪৬৬ জনের হতাহতের ঘটনা সংঘটিত হয়।

বিভিন্ন সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজপোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার সড়ক ও নৌপথে ঈদ-যাতায়াত কিছুটা স্বস্তিদায়ক ছিল।

ঈদ-যাত্রায় দেশব্যাপী সড়কপথে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ৪৬৬টি হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে প্রাণ হারান ১৪২ জন আর এতে মারাত্মক জখম হন ৩২৪ জন। রমজানের ঈদে এই ৪৬৬টি পরিবার এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে ঈদ আনন্দ ছিল না বললে কমই বলা হবে। বরং স্বজন হারানোর বেদনা এবং মারাত্মক জখম হওয়া পঙ্গুপ্রায় আহতদের চিকিৎসা নিয়ে তারা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর অবস্থা কতটা করুণ হয়, সে খবর কেউ কি রাখে? সড়ক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারান, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে তাদের বেশির ভাগই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আর উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়ে। ভুক্তভোগী ছাড়া এ ব্যাপারে অন্যদের অনুভূতি ভোঁতা বৈকি।

আবার সড়ক দুর্ঘটনায় যারা আহত হন, জরিপে দেখা গেছে- তাদের বেশির ভাগও পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আর উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় হাত-পা হারালে বা ভাঙলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করাতে হয়। একদিকে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপার্জন বন্ধ অন্যদিকে চিকিৎসা খরচ; এসব কারণে এককালের সচ্ছল পরিবারগুলো নিজেই পঙ্গু হয়ে যায়।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে শূন্যের কোটায় আনা যাবে না। তবে সহনীয় পর্যায়ে আনতে যা যা করণীয়, তা আন্তরিকভাবে করা হলে এবং তা মেনে চললে সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির সংখ্যা কমানো সম্ভব। আর এ কাজটা যত দ্রুত করা যাবে, ততই সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো সহজ হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোকে সহল রাখতে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সর্বোপরি দিশেহারা পরিবারকে একটু আলোর মুখ দেখাতে যাত্রীবীমা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। জরুরি এ কাজটার প্রতি দায়িত্বশীলদের অনীহা সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবাচ্ছে।

উৎসবকে সামনে রেখে সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রী সংখ্যা বাড়ে। স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ীর টানে গ্রামের দিকে স্রোত নামে। আনন্দ উৎসবকে নিরানন্দ করে দেয় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা। সড়কে আর যেন এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো বেশি যত্নবান হওয়া সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech