বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বেশ কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। আরো নতুন নতুন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যমুনা নদীর পানি ইতিমধ্যে জামালপুর জেলায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।কুড়িগ্রামের চিলমারী, গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে যমুনা, কুড়িগ্রামে ধরলা কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমা পার করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লালমনিরহাটে তিস্তার ৪৪টি গ্রেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অবিরাম বৃষ্টিতে রংপুরে তিস্তার পানি বেড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়ে তারা তিস্তার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীল পানি বাড়ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ এলাকার নদ-নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ৯৪ মিটির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকার দুই শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বানভাসি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রসহ উঁচু জায়গায় ঠাঁই নিচ্ছে।

একই অবস্থা গাইবান্ধার। গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদীর পানি বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, গাইবান্ধা সদর এবং ফুলছড়ির নদী তীরবর্তী এলাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে গেছে। এখানের নদীগুলোর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীগুলোয় ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। সাঙ্গু ও হালদা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদী পাড়ের স্থাপনাসহ ঘরবাড়ি। বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও বন্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ইতিমধ্যে ৩০০ মেট্টিক টন চাল, শুকনো খাবার ও ৫০ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের তুলনায় এসব ত্রাণ অপ্রতুল।পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বানবাসি মানুষের কষ্ট বাড়ছে। চাপকলগুলো ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি সমস্যা চরমে।

বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দুর্গতদের পাশে থাকার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে অন্য রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোসহ সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো সময়ের দাবি। সবাই মিলে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ালে সহজেই তারা সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

আজও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্গতি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যাকবলিত এসব মানুষের জন্য ত্রাণ অতীব জরুরি। ত্রাণের মধ্যে শুকনো খাবারের পাশাপাশি শিশুখাদ্যসহ বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, দিয়াশলাই তাদের জন্য বেশি উপকারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech