ভারতীয় কোম্পানি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ করছে : সুলতানা কামাল

  

পিএনএস ডেস্ক : সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, কার্বন তৈরির দায় কমাতে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের দেশে সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে গণআপত্তির মুখেও তারা সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটা এনটিপিসির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার তার ভুল অবস্থান থেকে সরে এসে রামপাল প্রকল্প বাতিল করুক। বন বিরোধী সব স্থাপনা উৎখাত করে প্রকৃতিক চরিত্রকে সংরক্ষণ করে বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ায় কয়লার বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হোক। সম্প্রতি জানা গেছে, রামপাল প্রকল্প নির্মাতা ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের নিজ দেশে সব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত করেছে। ইকোনমিক টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনটিপিসি আগামী পাঁচ বছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে না। কারণ তারা কার্বন তৈরির দায় কমাতে চায়। বরং এনটিপিসি গুজরাটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৌর শক্তি পার্ক তৈরি করতে ২৫ হাজার কোটি রুপি খরচ করছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠান প্রবল গণআপত্তির মুখে বাংলাদেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটা তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ।’

সুলতানা কামাল আরো বলেন, ‘আমরা সুন্দরবন এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বন্ধ করতে সরকারকে তাগিদ দিলেও তারা বসতে চায় না। সরকার খোঁড়া যুক্তি দিয়ে ওই প্রকল্প করতে চাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইউনেস্কোর ৪৩তম সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত, সুন্দরবন নিরাপদ ও ভালো রাখার ব্যাপারে আমাদের সফলতা নিয়ে ইউনেস্কোর ৪১তম সভায় কিছু নেতিবাচক কিন্তু সঠিক পর্যবেক্ষণ ছিল। বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে দায়িত্ব ছিল বা করণীয় ছিল তা গত জুনে ৪৩তম সভায় প্রতিবেদন আকারে দাখিল করে। কিন্তু ওই সভায় কমিটি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। কারণ ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করতে তাগাদা দেয়া হয়েছে। আগামী ইউনেস্কোর পর্যবেক্ষক দল সরেজমিনে দেখতে সুন্দরবনে আসবে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কৃত কাজের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আগামী বছর এই সময় প্রতিবেদন মূল্যায়ন করবে। সেই সভায় সরকারের কাজে কমিটি সন্তুষ্ট না হলে আগামী বছরই সুন্দরবন আবারো বিপদাপন্ন ঐতিহ্য তালিকায় চলে যেতে পারে। যা দেশ ও জনগণের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুঃখজনক, লজ্জার ও অপমানের একটি বিষয় হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য শরীফ জামিল এবং সদস্য রহিম হোসেন প্রিন্স।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন