উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার যেসব এলাকা লকডাউন

  

পিএনএস ডেস্ক: দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের এক মাসের মাথায় এসে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট ১৬৪ জন এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ জনই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

ফলে কোনো এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত হলেই ওই এলাকা লকড ডাউন করছে পুলিশ। মঙ্গলবারও মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার পাঁচটি সড়ক লকডাউন করেছে পুলিশ। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ওয়ারী ও পুরান ঢাকার চকবাজার, লালবাগের খাজে দেওয়ান, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ও বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এসব এলাকায় কাউকে প্রবেশ কিংবা বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউনের আওতায় থাকবেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

এদিকে সচেতনতার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি নিজ উদ্যোগে লকডাউন করে দিয়েছেন অনেকেই। অপরিচিত, গৃহকর্মী, এমনকি স্বজন-পরিজন কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না আবাসিক ভবনে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতেও দেয়া হচ্ছে না।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায়, আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী এই এলাকায় ছয়জনের বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেনন। এর মধ্যে তাজমহল রোডের ২০ সিরিয়াল রোড, বাবর রোডের কিছু অংশ, বসিলার পশ্চিম অংশ, রাজিয়া সুলতানা রোড ও বছিলার অলি-গলি রয়েছে। এ কারণে এসব সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আদাবরে একটি গলি লকডাউনের কথা জানিয়ে ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রওশানুল হক সৈকত বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় কয়েকজন রোগী সনাক্ত হবার পর পাঁচটি গলি লকডাউন করা হয়েছে। এসব সড়কে কাউকে প্রবেশ এবং বাহির হতে দেয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউনের আওতায় থাকবেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সড়কের বি-ব্লকে ও পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকায় মোট দুটি ভবন লকডাউন করা হয়েছে। সেখান থেকে কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। আইইডিসিআররের নির্দেশনায় ভবন দুটি লকডাউন করা হয়েছে হয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকায় পুলিশ পাহারায় রয়েছে। লোকজনের চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘চকবাজারের খাজে দেওয়ান লেন ও তার পাশের লেন, লালবাগের বড় ভাট মসজিদের পাশে ক্রিসেন্ট ক্লাব এলাকা, সূত্রাপুরের চারটি বাড়ি (সোমবার একজন মারা গিয়েছিল), বংশালে একটা বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামপুরের একটি বাড়ি লকডাউন করা আছে।’

মোহাম্মদপুরের স্থানীয় ইমদাদুল হক সিদ্দিক বলেন, রাত আটটায় এ এলাকায় যতটা নীরব, আগে তারা রাত ১২টাতেও এমন নীরবতা দেখেননি। প্রতিটি বাসার গেটে তালা। বাসায় আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে কঠোরতা। চুরি ছিনতাইয়ের কথা বিবেচনায় রাস্তায় রাখা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। বাসার মালিক বলে দিয়েছেন যে কোন আত্মীয় স্বজন যেন বাসায় না আসে। তাই সবসময় গেট লক করে রাখা হয়েছে।

আইইডিসিআরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে মারা গেছেন মোট ১৭ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত ৪১ জনকে নিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৬৪ জন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন