গর্ভস্থ শিশুর করোনার ঝুঁকি নেই: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

  

পিএনএস ডেস্ক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেছেন, ‘করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের কাছে থেকে গর্ভস্থ শিশুর আক্রান্ত হওয়ার কোন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ভুমিষ্ঠ হওয়ার পরে শিশুটি সংক্রমিত হতে পারে। তাই নবজাতকের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবলম্বন করতে হবে।’

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান তিনি।

নাসিমা বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত মা ও নবজাতক একই কক্ষে থাকতে পারবেন। তবে নবজাতককে প্রতিবার স্পর্শ করার পূর্বে এবং পরে মা সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিবেন অথবা সুবিধা ধাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মায়ের দুধের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয় না। বুকের দুধ খাওয়ানো বা ত্বকের স্পর্শে রাখার সময় মা মাস্ক পরিধান করবেন।’

এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে তিনি জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৭৮৩ জন মারা গেলেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৪ হাজার ১৪ জন। ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন।

নাসিমা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়েছেন মোট ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।’

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৫১ জন। মারা গেছেন ৫ লাখ ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে ৫৫ লাখ ৬৩ হাজারেরও বেশি রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন