আমাদের ফুটবলকে বাঁচানো দরকার

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ১৫ জুন রাশিয়ায় বিশ্বকাফ ফুটবলের ২১তম আসর শুরু হওয়ার পর পর্দা নামা পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার শেষ ছিল না। মিডিয়াজুড়ে এর রেশ কিছু হলেও দৃষ্টি কেড়েছে সচেতন জনগোষ্ঠীর। প্রিয় দলের পতাকা থেকে শুরু করে জার্সি গায়ে এমনকি দলটির গৌরবময় অতীত নিয়ে মেতে ছিল সমর্থকরা। অথচ নিজের দেশের অবস্থান কোথায়?

১০ টাকা থেকে শুরু করে একেকটি পতাকা বিক্রি হয়েছে হাজার টাকায়। অনেকে বিরাট বিরাট পতাকা অর্ডার দিয়ে বানিয়েছে। একটি জার্সি ২০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এক মাইলব্যাপী পতাকা বানানোর ঘটনাও আমাদের দেশে আছে। জার্মানীর এক সমর্থক যা করে। ব্রাজিলের এক সমর্থক তো সে দেশের পতাকার রঙে বাড়ি রাঙিয়ে নাম দিয়েছে ব্রাজিল হাউজ।

ব্রাজিলকে নিয়ে ফুটবল উন্মাদনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জে ব্রাজিল হাউজ দেখতে যান সে দেশের কজন ক্রীড়া সাংবাদিকসহ রাষ্ট্রদূত স্বয়ং। একইভাবে বাংলা ভিশনের একটি নাটকে দেখা গেছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে একটি বাড়ি রাঙাতে গিয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান ও সঞ্চল চৌধুরীর মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। নাটকটি উপভোগ্য ছিল বৈকি।


দেশের প্রায় সব মিঢিয়াজুড়ে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল বিশ্বকাফ ফুটবল খেলা চলাকালীন। আগে থেকেই প্রিন্ট মিডিয়া বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দল এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। আগাম তুলে ধরে খেলার ফিকচার। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিদিনের খেলার ছিল কুইজ। দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার।


আদতে বাংলাদেশের ফুটবল বর্তমানে মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ। মাঠের ফুটবল মিডিয়ায় বেশ প্রভাব ফেলছে। দেশের এককালের জনপ্রিয় এ খেলাটি নিয়ে যাদের ভাবার কথা, তাদের অবহেলায় খেলাটি কবরে যাওয়া উপক্রম। মাঠ, উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার অভাবে এ খেলাটি আজ মৃত প্রায়। অথচ এর জন্য বরাদ্দ কিন্তু কম নেই। উদ্যোগ নিলে স্পন্সর পাওয়া যাবে ভূরি ভূরি।

টানা এক মাসের বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন মনে হয়েছে বাংলাদেশের মৃত প্রায় ফুটবলকে মিডিয়া বাঁচিয়ে রেখেছে। মিডিয়ার প্রতিটি আলোচনায় দেশের ফুটবলের করুণ চিত্র ঘুরে-ফিরে ফুটে উঠেছে। অবহেলিত এ ফুটবলকে মাঠে আনা, পরিচর্যার জন্য সময়োপযোগী করণীয় নির্ধারণ, সর্বোপরি একটি ফুটবল একাডেমি অথবা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপনের কাজটি জরুরি ভিত্তিতে করার দাবি উঠেছে।


জনপ্রিয় এ খেলাটির উন্নয়নে স্বাধীনতারেএত বছর পরও দেশে একটি একাডেমি স্থাপন না হওয়ার পরিতাপের বিষয়। সময় পেরিয়ে যায়নি, উদ্যোগের অভাবই মূলত দায়ী। সোজা কথায়, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার লোকের অভাব। ঘন্টা বাধার লোক আমরা পাব কোথায়, দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী যদি নিজেই স্টেডিয়াম না চেনেন!

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech