মাশরাফির পর ওয়ানডে অধিনায়ক সাকিব?

  

পিএনএস ডেস্ক : সাকিব আল হাসানকে বড্ড মিস করছে বাংলাদেশ দল। এতটাই মিস করছে যে সময়ে সময়ে যেকোনো আলোচনাতেই উঠে আসছে সাকিব প্রসঙ্গ। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরতে এখনো যে তাঁর ৮ মাস বাকি!

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে সাকিব বাংলাদেশের অধিনায়ক। তাঁর অনুপস্থিতিতে ছোট সংস্করণে মাহমুদউল্লাহ আর বড় সংস্করণে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুমিনুল হক। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তাঁর শেষ দেখছেন। সাকিব ফিরলে ভবিষ্যতে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব যে তাঁকেই দেওয়া হবে—কাল বিসিবিতে সংবাদমাধ্যমকে সে ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন বোর্ডপ্রধান নাজমুল হাসান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সাকিবের ফেরার আগে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৫০ ওভারের সংস্করণে নেতৃত্ব দেবেন কে?

এ বছর অবশ্য খুব বেশি ওয়ানডে নেই বাংলাদেশের। এপ্রিলে পাকিস্তান সফরের তৃতীয় ধাপে করাচিতে একটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে যে তিনটি ওয়ানডে আছে, সেটি অবশ্য একটি দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসি ওয়ানডে লিগের অংশ এই সিরিজের ফল এদিক-ওদিক হলে সেটি বাংলাদেশের বিপদের কারণ হতে পারে। এ চারটি ওয়ানডেতে তাহলে কে অধিনায়ক হবেন? সবদিক বিবেচনায় ভারপ্রাপ্ত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কাঁধেই এই চার ওয়ানডের অধিনায়কত্বের ‘ভার’ ওঠার কথা।

সাকিব ফিরলে ভারপ্রাপ্তদের ভার লাঘব হওয়াই স্বাভাবিক। মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল দুজনের কাউকেই চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সিরিজ অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের অধিনায়ক কে হবেন, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

কাল বিসিবিতে সংবাদ সম্মেলনেও উঠল কথাটা। সভাপতি নাজমুল হাসান জানিয়ে দিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে সাকিবকে নিয়ে তাদের ভাবনা, ‘ওয়ানডেতে তো অবশ্যই। সে যদি ফেরত আসে, সে যদি আবার ফর্মে ফেরে আর যেমন ছিল তেমনই থাকে, তাহলে ওয়ানডে অধিনায়কত্বের মূল দাবিদার তো সে-ই। সাকিব সব সময়ই দাবিদার ছিল।’

অক্টোবরের অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবকে পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে। বাংলাদেশকে এবার র‌্যাঙ্কিংয়ের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ে খেলতে হবে। বাছাইপর্বের সময় সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে না। বাছাইপর্বে ভালো করে মূল বিশ্বকাপে চলে গেলেও সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে হতে কয়েকটা ম্যাচ খেলা হয়ে যাবে। সে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় নেতৃত্বের পতাকাটা থাকবে অন্য কারও হাতে।

কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য কিছুদিন আগে মাহমুদউল্লাহকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক করার কথা বলেছেন। নাজমুল মাহমুদউল্লাহর কথা সরাসরি না বললেও বিশ্বকাপে সাকিবের যে অধিনায়কত্ব করার সম্ভাবনা প্রায় নেই, সেটিই জানিয়েছেন কাল, ‘প্রথম কথা হচ্ছে বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে তো সাকিব আসতে পারবে না। আমরা যদি বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল বিশ্বকাপে যাই, তাহলেও কয়েকটা ম্যাচে সে থাকবে না। ওই সময় তো অধিনায়ক একজন থাকবে। তারপরেও সাকিব কোনো ম্যাচ অনুশীলন ছাড়াই দলে ঢুকতে পারবে কি না, বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না, সেটা আলাপ করে জানতে হবে। বিশ্বকাপে সাকিবের অধিনায়ক হওয়াটা তাই একটু অদ্ভুত।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন