কপিলমুনি বাজার উন্নয়ন কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে

  

পিএনএস, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজারের একটি খুলনার কপিলমুনি। দেশ-বিদেশে উৎকৃষ্ট মানের হলুদ রপ্তানি হয় এখান থেকে। শুধু হলুদ নয়, এ বাজারের রয়েছে অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য। প্রতি বছর এ বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে। যতদুর জানাযায় কোম্পানি শাসনের প্রথম দিকে বাজারের গোড়াপত্তন হয়। কপোতাক্ষ নদের পূর্ব তীরে স্বল্প পরিসরে কপিলমুনি বাজার কার্যক্রম শুরু হয়। তার প্রায় দেড়’শ বছর পর বাংলা ১৩৩৯ সালে স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু নিজ অর্থায়নে বাজারের পরিধিসহ আধুনিকায়ন করেন। পরবর্তী সময় বাজারটি সরকার নিয়ন্ত্রন করছে। প্রায় শত বছর পরেও বাজারে সরকারী ভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। গত বছর প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে বাজার উন্নয়ন কাজ শুরু হলে তা চলছে কচ্ছপ গতিতে।

সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে খুলনা জেলার কয়রা, ডুমুরিয়া ও কপিলমুনি হাট-বাজার আরবান সেন্টার স্কীম সিটি রিজিওয়ন ডেভলপমেন্ট প্রোজেক্ট (সিআরডিপি) এলজিইডি খুলনার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়। আর এ কাজে ৭কোটি ১৭লক্ষ ৪৩ হাজার ২শত ৮৪ টাকা ৮৯ পয়সা বরাদ্দ দেয়া হয়। খুলনার রূপসা উপজেলার শোলপুর যুগীহাটি এলাকার আইইএল এন্ড এফটি (জেভি) নামক প্রতিষ্ঠান ৫ কোটি ৯১লক্ষ ৮৬হাজার ৪শত ৮৮ টাকায় গত বছরের ৫ জুলাই থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মধ্যে কাজ সম্পন্ন জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

সে মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কপিলমুনি হাট-বাজার উন্নয়নের জন্য জ্বলোবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও সুষ্ঠ চলাচলের জন্য কংক্রিট সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে। সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত নির্ধারিত কাজের একটিও সম্পন্ন হয়নি। প্রথম দিকে দ্রুত গতিতে কাজ চললেও এখন চলছে কচ্ছপ গতিতে। খোঁড়াখুড়ি, অসমাপ্ত রাস্তা, ড্রেন ও নির্মাণ কাজের উপকরণ যত্রতত্র ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগ পড়েছে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সর্বসাধারণ। যে গতিতে কাজ চলছে আগামী ২বছরেও কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা স্থানীদের। খন্ড খন্ড ড্রেন নির্মাণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। বছরের প্রায় ছয় মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কালচে রঙের পানিতে ডুবে থাকে।

বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী ধান্যচত্ত্বর। বাজারে ব্যবসায়ী কিনু পাল জানান, যেখানে সেখানে এলোমেলোভাবে মাটি, পাথর ও বালী স্তুপ করে রাখায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়কে দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে। হাটের দিন (রবি ও বৃহঃ বার) পাইকারী কাঁচামাল প্রধান সড়কের দু’ধারে রেখে কেনা বেচা করায় সীমাহীন যানজটে পড়ে নাকাল সাধারণ মানুষ। ঠিকাদারের এহেন গড়িমশি অবস্থা দেখার কেউ নেই। রেজিস্টার্ড ব্যবসায়ী সংগঠন থাকলেও এখন অকার্যকর সাইন বোর্ড সর্বস্ব সংগঠন জানালেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। যত্রতত্র চলছে দখলের সমাহার, সরকারী নিয়ম নীতির কোনই তোয়াক্কা নেই, হাট পেরিফেরী জায়গায় আরসিসি বিল্ডি নির্মাণ, হাটের চত্ত্বর দখল করে সিঁড়ি নির্মাণ, সরকারের খোলা চাঁদনী রুম রুম করে স্থায়ী দোকান ঘর নির্মাণ, একসনা ডিসিআর এর জায়গায় পাকা ইমারত নির্মাণ, মূল দোকানের বাইরে এসে রাস্তা দখল, খাস জমিতে নিজস্ব সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইন বোর্ড স্থাপন ও বাসা বাড়ি নির্মাণ, যে যার মতো যা খুশী তাই করছে। কপিলমুনি হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার বলেন, সরকারী নিয়মের বাইরে যারা যা করছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

অবৈধ দখলদারদের সরকারিভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীণ। ঐতিহ্যবাহী হাট বাজারের উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি ইচ্ছা মত কাজ করায় দুর্ভোগ এখন নিত্য সঙ্গি। তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দ্রুততার সাথে কাজ শেষ করার দাবী করেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech