ময়মনসিংহে সম্মান রক্ষার্থে মেয়েকে হত্যা করলেন মাওলানা!

  

পিএনএস ডেস্ক : মেয়েকে শেকলে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ লুকিয়ে রাখা হয় খাটের নিচে। আর পুলিশের ভয়ে মেয়ের লাশ পাহারা দিচ্ছিলেন মা।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এলাকার লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা নয়াপাড়া গ্রামে। নিহতের নাম মোছা. তানজুরুন (১৬)। সে ওই গ্রামের মাওলানা আবুল হাসেমের (৪৮) মেয়ে।

এলাকার চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়া জানান, মেয়েকে হত্যার পর আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় তার বাড়িতে গিয়ে মেয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন বাবা আবুল হাসেম। পরে তিনি হাসেমকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় পথে পুলিশ তাকে আটক করে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, তানজুরুনের লাশটি পুলিশ তার শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা লাশটি হয়তো গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই ঘরের অপর একটি খাটে কিশোরীর মা জুবেদা বেগমকে ভাবলেশহীন বসে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে আসেন থানার ওসি মো. ইউনুস আলী ও এসআই মো. ফিরোজ আহমেদ। লাশটি খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে দৃশ্যমান জায়গায় রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, লাশের মাথায় মুগুর জাতীয় বস্তুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষত ও দুই পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি মুগুড় ও শেকল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান জানান, তিনি নিহতের মা জুবেদা বেগমকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জুবেদা তাকে বলেছেন, গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতের পর তানজুরুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাবা আবুল হাসেম তাকে বাইরে যেতে বাধা দেন।

একপর্যায়ে তানজুরুনকে ধরে ঘরে নিয়ে শেকল দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে শাসন করেন। লাঠির আঘাত মাথায় লাগলে তানুজুরুন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ অবস্থা দেখে আবুল হাসেম বাড়ি থেকে দ্রুত চলে যান। এই অবস্থায় মেয়ে মারা যাওয়ার পর কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এই জন্য তিনি ঘরের দরজা খুলে বসেছিলেন।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানজুরুনের স্বভাব-চরিত্র ভালো ছিল না। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতো। এ জন্য এলাকার লোকজন আকারে-ইঙ্গিতে মাওলানা সাহেবের মেয়ের চরিত্র নিয়ে নানা কথা বলতো। এদিকে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে টাকা চুরি করে তানজুরুন। তিনি ও আবুল হাসেম ঘটনাটি মীমাংসা করে তানজুরুনকে ছাড়িয়ে আনেন। এ ধরনের আরও অপকর্মের কারণে আবুল হাসেম মেয়ের প্রতি চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে একাধিক গ্রামবাসী জানান।

এ ঘটনার পর পুলিশের একটি দল মাঠে নেমে পড়ে হত্যাকারী বাবাকে ধরতে। দুপুর ১টার দিকে বাড়ির অদূরে একটি ইটভাটার কাছ থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

থানায় থাকা বাবা আবুল হাসেম জানান, তিনি এলাকার মসজিদে ইমামতি করেন। মেয়ে খারাপ পথে চলে যাওয়ায় জীবন চলাচলে বেকায়দায় পড়েন। অনেকবার চেষ্টা করেছেন মেয়েকে পথে আনতে। আজ মঙ্গলবার ভোরে সবার অজান্তে বাড়ি থেকে চলে যেতে চায় তার মেয়ে। এতে বাধা দিলে সে মানেনি। পরে ঘরের ভেতর নিয়ে হাত-পা শেকলে বেঁধে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল শাসনের জন্য। এ অবস্থায় সে মরে যাবে বুঝতে পারেননি তিনি। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech