এমন দুর্ঘটনা যেন কোনো বাবা-মা না দেখেন!

  

পিএনএস ডেস্ক : চোখের সামনে একমাত্র ছেলের করুণ মৃত্যু দেখে কোনো বাবা-মা তাদের সুস্থ জ্ঞান রাখা অসম্ভব। আর এমনি একটি মরমাহত ঘটনার শিকার আলফাজ উদ্দীন -তামান্না খাতুন দাম্পত্য। সন্তানের লাশের সঙ্গে বাবা-মাকেও নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকেবাবা আলফাজ উদ্দীন মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। পেছনে মা তামান্না খাতুনের কোলে ছিলেন ১৯ মাস বয়সী তামিম হোসেন। কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় ট্রাফিক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছার পর ঝাঁকুনিতে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় তামিম। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যানের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মেহেদী হাসান জানান, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অসুস্থ মা-বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনাটি বেহাল সড়কের কারণেই ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর ট্রাফিক কার্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর পর গর্তে পড়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে মোটরসাইকেলটি থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়েন ওই দম্পতি। আলফাজ ও তার স্ত্রী ছিটকে রাস্তার এক পাশে পড়ে যান। অপর পাশে যায় মায়ের কোলে থাকা তামিম। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান শিশুটিকে চাপা দেয়। মা-বাবা বাঁচলেও চোখের সামনে প্রিয় সন্তানের করুণ মৃত্যু দেখে দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিপন সরকার বলেন, কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ এবং চালক ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তামিমদের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের শ্রীখল গ্রামে।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech