মহাসড়কে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, ঘটছে দুর্ঘটনা ও যানজট

  

পিএনএস, রিপন আলি রকি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রকৃতির এক মনোরম পরিবেশ সবুজায়ন বনে বসবাস করা অবলা হাতিদের বস মানিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজ স্বার্থসিদ্ধির কাজে। সাথী, দলবল ও ছানাগুলোর কাছ থেকে হাতিগুলোকে কেড়ে নিয়ে এসে পায়ে ডান্ডাবেড়ি দিয়ে দালানকোঠা, ধুলোময় ও ধনুটে দুনিয়ার বিভিন্ন শহর ও নগরে অপকর্মে লিপ্ত করছে লুটেরার মত একশ্রেণীর মানুষ।

ঠিক তেমনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড়, শান্তির মোড় ও বারঘরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সর্বহারা অবলা হাতি দিয়ে অভিনব কায়দায় চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। যত্রতত্র হাতি দাঁড় করিয়ে টাকা আদায়ের কারণে শহরে বাড়ছে যানজট।

সেই সাথে চালকদের আত্মভয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। বিড়ম্বনায় পড়েছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ। হাতি শুঁড় দিয়ে এমনভাবে মানুষ ও যানবাহন আটক করছে যে ভুক্তভোগীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে কেনাকাটা করতে আসা রাসেল মাহমুদ জানান, তিনি হাতিকে ১০ টাকা দিয়েছেন। কারণ হাতি শুঁড় দিয়ে তাকে চেপে ধরছে। ১০ টাকার কম দিলে তা গ্রহণ করছে না। ১০ টাকা দিলে হাতিটি পিঠে বসে থাকা মালিককে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা দিয়ে দেয়। যা চাঁদাবাজির শামিল।

ঘোড়াস্ট্যান্ড বাজারের এক দোকানদার ব্যবসায়ী জানান, হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে ক্রেতারা ভয়ে দোকানে ঢুকতে সাহস পান না। বিড়ম্বনা এড়াতে আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে দেই, যাতে হাতি তাড়াতাড়ি দোকানের সামনে থেকে চলে যায়।

হাতি দিয়ে প্রতিদিনই এরকম করে দোকানদারদের কাছ থেকে হাজার হাজর টাকা চাঁদা নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও মালিক তার দানবজাত হাতি নিয়ে শহরের বাইরে গ্রামে গ্রামেও ছুটছে আর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে মানুষ।

সরেজমিনে শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের সরকার মোড় এলাকাই দেখা যায় বিশেষ কায়দা চাঁদাবাজির এক বিরল দৃশ্য, বড় হাতির পিঠে বসে একজন হাতিটিকে পরিচালনা করছেন।

ব্যস্ততম সড়কের মাঝ পথে ভয়ানক হাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে পথরোধ করে নেওয়া হচ্ছে ১০, ২০ ও ৫০ টাকা করে। যেমন যানবাহন তেমন চাঁদা। তবে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন মটরসাইকেল চালকরা।

রামচন্দ্রপুর হাটের মোসাদ্দেক হোসেন জানান, শনিবার বিকেলে লালাপাড়া এলাকাই হাতি নিয়ে পথরোধ করার সময় শিবগঞ্জ এলাকার দুইজন মটরসাইকেল আরোহী আত্মভয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে গুরুতর আহত হন ঐ দুই ব্যক্তি।

মটরসাইকেলটিরও ক্ষয়ক্ষতি হয় ব্যাপক। তবে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ও হাতি নিয়ে চলে যেতে বললে ঘটনার মোড় নেয় অন্যদিকে। মালিক তার হাতিটিকে ক্ষেপিয়ে তাড়া করে সাধারণ মানুগুলোকে। সেখানেও সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট আর ভোগান্তি পোহান পথচারীরা।

চাঁদাবাজি এখানেই শেষ নয়। প্রতিটি দোকান থেকে হাতি দিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরানো হয়না। সরকার মোড়টির কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রায় প্রতিদিনই অনেক খাতে টাকা দিতে হয়। বর্তমানে হাতিকেও দিতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক।

আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষনন করছি এই হাতি ও চাঁদাবাজ মানুষটিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হয়। এখান থেকে তাড়িয়ে দিলে হয়তো অন্য এলাকাই একইরুপ ঘটনার শিকার হবে সাধারণ মানুষ।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech