সরাইল জনতা ব্যাংকের গ্রাহকের জমার পরই গায়েব ২ লাখ টাকা - মফস্বল - Premier News Syndicate Limited (PNS)

সরাইল জনতা ব্যাংকের গ্রাহকের জমার পরই গায়েব ২ লাখ টাকা

  

পিএনএস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মোঃরাকিবুর রহমান রকিব : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল জনতা ব্যাংকে ঘটে গেল তুঘলকি কান্ড। কাউন্টারে জমা দেওয়ার পর গ্রাহকের অজান্তেই গায়েব ২ লাখ টাকা। টাকা ও ভাউচার কোনটাই ফেরৎ না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে গ্রাহক। বাক-বিতন্ডা ও আর্তচিৎকারে কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে ব্যাংকের কার্যক্রম। এ ঘটনায় দায়ী থাকায় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার সুভাষ বাবুকে জরিমানা গুনতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আর গ্রাহকের ২৫ হাজার টাকা।

গত রোববার (১০জুন) সরাইল জনতা ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে ঘটেছে এ ঘটনা। সরজমিনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, দেওড়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া চাঁদপুরে টিটি করার জন্য ভাউচার সহ ২ লাখ টাকা জমা দেন ক্যাশ কাউন্টারে বসা হাসান মিয়ার নিকট। হাসান মিয়া দেন ক্যাশিয়ার সুভাষ বাবুর নিকট। সুভাষ বাবু কিছুক্ষণ পর গ্রাহক রাকিবকে জানান হিসাব নাম্বারে ভুল আছে টাকা পাঠানো যাবে না। সঠিক আরেকটি নাম্বার দিতেও বলেন। রাকিব তখন টাকা ও ভাউচার ফেরত চাইলে ক্যাশিয়ার তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। দেড় ঘন্টা পর কাউন্টারে গিয়ে টাকা ফেরৎ চাইলে রাকিবকে জানানো হয় ‘আপনার সাথের লোকটি টাকা নিয়ে গেছেন।’ আশ্চর্য্য ও হতভম্ভ হয়ে পড়ে রাকিব। দিশেহারা হয়ে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে রাকিব ও তার বাবা।

এ ঘটনায় ক্যাশিয়ারের সাথে রাকিবের স্বজনদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় ব্যাংকের কৃষি ক্লার্ক মো: কবির উদ্দিন রাকিবের স্বজনদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে কৃষি ক্লার্ক কবির উদ্দিন ব্যাংকের গ্রাহকদের নিয়মিত নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কিছু সময় বন্ধ থাকে ব্যাংকের কার্যক্রম। ব্যবস্থাপকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ক্যাশিয়ার সুভাষ ভাউচার সহ ২ লাখ টাকা জমা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হিসাব নাম্বার ভুল ছিল। রাকিবের লোকের কাছেই টাকা ফেরৎ দিয়েছি। নাম্বার ভুল না সঠিক তা যাচাইয়ের জন্য ভাউচার দেখতে চাইলে ক্যাশিয়ার বলেন, ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছি। রাকিবকে বসতে বলে আরেকজনের কাছে ভাউচার ছাড়া টাকা ফেরৎ দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে নিরব থাকেন সুভাষ বাবু।

বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য রোববার বিকেলে ব্যাবস্থাপকের সাথে বসেন শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকন। ভিডিও ফুটেজ দেখে তারা ৩ জনকে জরিমানা করেন। ভাউচারে এনালগ নাম্বার লেখা ও যে লোকটি টাকা নিয়ে গেছে তার সাথে ব্যাংকের ভেতরে আন্তরিক পরিবেশে দেখা যাওয়ায় রাকিবের আত্মীয় রবিউলকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং নাম্বার কি এনালগ না ডিজটিাল তা না দেখে ভাউচার ছিঁড়ে ফেলার অপরাধে ক্যাশিয়ার সুভাষ বাবুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই লোকটির সাথে ব্যাংকে বসা এবং হাঁটাহাটি করার দায়ে রাকিবকে জরিমানা গুনতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মানবেন্দ্র পাল ভবনের মালিক, বাজার কমিটির মাখন মিয়া ও চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকনকে নিয়ে নিস্পত্তি সভা করার কথা স্বীকার করে বলেন, ক্যাশিয়ারের ক্রটি থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে নাম্বার ভুল লেখার দায়ে লেখক সোয়া লাখ ও টাকা নিয়ে যাওয়া প্রতারকের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ায় রাকিবকে ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে প্রতারককে চিহ্নিতকরণ বা বিচার করার বিষয়ে কিছু বলেননি ব্যবস্থাপক।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech