নবাবগঞ্জে খরায় আমন ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশংকা কৃষকদের

  


পিএনএস,নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: শস্য ভান্ডার এলাকা হিসাবে পরিচিত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে খরার কারনে আমন ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশংকা কৃষকদের। সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাওয়ার কারনে তারা ওই আশংকা করছে। সবুজের সমারোহে পরিণত হওয়া রোপা আমন ফসলের মাঠ গুলি যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লিলা ভুমিতে পরিণত হয়েছিল বৃষ্টির অভাবে তা যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের ভাষায় আমন ফসলে নানা রোগ বালাই ও ইঁদুরের উপদ্র্রব চড়াই উথরাই করা গেলেও প্রাকৃতিক রুপে যে বৃষ্টি হওয়ার কথা তা না হওয়ায় তারা চিন্তিত। আর পানি না হলে ধান গাছ থেকে ধানের শীষ বের হতে পারবে না।

উপজেলার শালখুরিয়া ইউনিয়নের বেড়ামালিয়া গ্রামের কৃষক মাহবুব আলম জানান মাঠে পানি নাই। পানি না হলে ধানের শীষ বরে হতে পারবে না ফলে ফলন কম পাওয়া যাবে। পুটিমারা ইউনিয়নের লোকা গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান জানান বৃষ্টি না হলে ব্রি-৩৪(জিরা) জাতের ধানের শিষই বের হবে না। কুশদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানালেন তার এলাকায় জমিতে পানি না থাকায় কোথাও কোথাও ধান গাছ মরে বা পুড়ে যাওয়ার মত হয়েছে। অনেকেই জমিতে সেচ দিতে শুরু করেছে। একই সমস্যার কথা জানালেন জয়পুর ইউনিয়নের ভালকা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আঃ মান্নান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান এই উপজেলা এলাকায় কৃষকেরা রোপা আমন রোপনে তেমন কোন বাধার সম্মূখিন হয় নাই। খরা বা বন্যা কি তা কৃষকেরা বলতে গেলে বুঝতেই পারে নাই।

যথা সময়ে তারা চাষাবাদ করতে পেরেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকেরা ফসলের সঠিক পরিচর্যা করায় আপাতত মাঠের ফসলে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। তিনি বলেন এলাকার ফসলের মাঠে কিট-পতঙ্গ ও বালাই নিরোধের লক্ষ্যে কৃষকদের কিট নাশক ব্যবহার না করে ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিংয়ের উপকারিতা ও কার্যকারিতা বিষয়ে সচেতন করা সহ ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ সার্বক্ষনিক কৃষক ভাইদের বিভিন্ন ভাবে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টি না হলে ফসলে ফলন বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। তার ভাষায় এখনও মাঠের পরিস্থিতি ভাল রয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যেও যদি বৃষ্টি হয় তাহলে সমস্যা হবে না। এছাড়াও তিনি গভীর নলকুপ সংশ্লিষ্টদের বলেছেন কৃষকদের পানি দেয়ার জন্য।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে হাইব্রিড জাত ১ হাজার হেক্টর এবং উফশী জাত ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি রয়েছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech