প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগ নেতার ঘুষি

  


পিএনএস ডেস্ক: ১৮ মার্চের উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় একটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর করেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুর রহমান। অধ্যাপক রহমান কমলগঞ্জ উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে ৩০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন তিনি। এর আগে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন তিনি।

নির্বাচনের দিন ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে তার মারধর ও হেনস্তা করার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন মারধরের শিকার হওয়া নির্বাচনি কর্মকর্তাও। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বলছেন, তিনি মারধর করেননি, শুধু ফোন কেড়ে নিতে চেয়েছেন।

ঘটনাটি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ইফজালুর রহমান চৌধুরী চেয়ারে বসে কাউকে মোবাইলে ফোন দেয়ার চেষ্টা করছেন। তার সামনে তখন উত্তেজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুর রহমান। তাকে ফোনটি ছাড়ার জন্য বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি, সেই সঙ্গে জোর করে ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এক পর্যায়ে ইফজালুর রহমান চৌধুরীর মুখে সজোরে ঘুষি বসিয়ে দেন রফিকুর রহমান। শেষ পর্যন্ত ফোনটিও কেড়ে নেন তিনি। ইফজালুর রহমান চৌধুরীকে এসময় তার চেয়ারে অসহায়ভাবে বসে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ইফজালুর রহমান চৌধুরী। তবে তিনি এটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। ঘটনাটি সাড়ে এগারোটা থেকে পৌনে বারোটার মধ্যে ঘটেছে বলে জানান তিনি।

ইফজালুর রহমান বলেন, ‘‘সঠিক বুঝতে পারিনি কী নিয়ে ওনার মাথা গরম হয়েছে।'' বিষয়টি পরে কাউকে জানাননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমাদের একটা মিউচ্যুয়াল হয়েছে। ভোটের সময় প্রার্থীদের মাথাতো একটু গরম থাকেই। এটা এক্সিডেন্টালি হয়েছে।''

চাকুরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টিকে আর আমি বাড়াতে চাচ্ছি না।'' ইফজালুর রহমান চৌধুরী ফুলবাড়ি চা বাগানের সহ-ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান বলছেন, তিনি প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর করেননি। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘উনি (ইফজালুর রহমান চৌধুরী) দরজা বন্ধ করে রুমের ভিতরে বসেছিলেন। সাংবাদিকরা পুলিশ দিয়ে তারপর খুলছে। জিজ্ঞাসা করেছে আপনার এখানে ভোট কতটা কাস্ট হয়েছে। ভোট কাস্ট হয়েছে ৩৫২টা, কিন্তু উনি বলেছেন ৮৫২টা।''

ইফজালুর রহমান চৌধুরীর কক্ষে যাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন দিকে ফোন দিচ্ছিলেন বলে জানান রফিকুর রহমান। বলেন, ‘‘ওনারে বললাম ফোন বন্ধ করেন। উনি বন্ধ করে না। এই ওনার সাথে ফোন নিয়ে কাড়াকাড়ি হইছে, উনি ফোন দেয় না।'' কিন্তু মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন রফিকুর রহমান। দাবি করেন, ‘‘মোবাইল কাড়াকাড়ি হইছে মারধর হয় নাই।''

রফিকুর রহমান দাবি করেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোট কারচুপি করছিলেন। বিষয়টি অভিযোগ না করে কেন তার উপর চড়াও হলেন এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘যখন ফোন দেয়, তখন মাথা টাথা গরম তো, উত্তেজনার ব্যাপারতো। তখনই কাড়াকাড়ি হয়েছে এই আরকি?'' সূত্র: নয়া দিগন্ত

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech