নেত্রকোনায় নতুন এলাকা প্লাবিত

  

পিএনএস ডেস্ক : ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও কলমাকান্দার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনা হতে কলমাকান্দা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানিতে ডুবে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যায় ৩ উপজেলায় অন্তত ২ শতাধিক গ্রামে প্রায় ৫০ হাজারের মতো মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়া দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকছে। গ্রামীণ বেশ কয়েকটি সড়ক পানির নিচে থাকায় উপজেলা ও জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার প্রধান নদী কংস, সোমেশ্বরী, ধনু, উব্দাখালিতে পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে।

কলমাকান্দার বড়খাপন, রংছাতি, লেঙ্গুরা, খারনৈ, নাজিরপুর, পোগলা, কৈলাটি ও সদর, দুর্গাপুরের গাওকান্দিয়া, কুল্লাগড়া, বাকলজোড়া, কাকৈরগড়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নের আংশিক এবং বারহাট্টার রায়পুর ও বাউসী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে অন্তত ৫০ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

স্কুল-মাদ্রাসায় পানি ঢুকছে। কলমাকান্দার পাঁচগাও, লেঙ্গুরা, বড়খাপন, চারালকোনাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ বাজার পানির নিচে রয়েছে। এ ছাড়া বড়খাপন, চানপুর, ধিতপুর, পাঁচকাঠা, পালপাড়া, কলেজ রোডসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ পাকাসড়ক পানির নিচে থাকায় মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পুকুর ও মৎস্য খামারে পানি প্রবেশ করে মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

দুর্গাপুরে বিরিশিরি ও কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ১৯৬টি পরিবার ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে।

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা- দুর্গাপুর ) আসনের এমপি মানু মজুমদার জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পারি ও ভাড়ি বর্ষণের কারণে দুই উপজেলায় বেশ কিছু গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার বরখাপন ইউনিয়নের উদয়পুরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার ত্রাণ দেয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, সোমেশ্বরী, উব্দাখালি, কংশসহ কয়েকটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কিছু ওপরে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রতি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে। অনেক পানিবন্দিদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech