শেরপুরে দুর্ধর্ষ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার : ইয়াবা-ফেন্সিডিল উদ্ধার

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিংহভাগই খুচরা মাদক বিক্রেতা ও বহনকারী। ফলে রাঘববোয়ালরা বরাবরের মতোই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই শীর্ষ মাদক কারবারিরা কখনো আত্মগোপনে আবার কখনো প্রকাশ্যে এসে অভিনবপন্থায় বা কৌশল বদলে মাদক ব্যবসা করে থাকেন। এ অবস্থায় মাদকের গডফাদার তথা রাঘববোয়ালদের ধরতে এবার অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২২আগস্ট) রাতে তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানাকে (৪৪) গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় শরীর তল্লাশি করে আমদানি নিষিদ্ধ সাত বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার হয়। তিনি উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শালফা গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে শেরপুর থানাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় মাদকের নয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার হওয়া সোহেল রানা পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন মাদক শীর্ষ মাদক কারবারি। সে এই উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রকমারি মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে থাকে। সম্প্রতি স্থানীয় শালফা গ্রামস্থ আস্তানায় গাঁজা ও ফেন্সিডিলের একটি বড় চালান আসে। এমনকি পাইকারিদরে এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে রকমারি মাদকদ্রব্য অন্যত্র সরিয়ে নিলেও উক্ত পরিমান ফেন্সিডিলসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এই শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেফতারের একদিন আগে গত ২১আগস্ট রাতে আরও দুই ইয়াবা স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের নিকট থেকে ২০০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের সয়াধানগড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. আকলেছুর রহমান রিংকু (৩৯) ও কুড়িগ্রামের ফেকচারচর গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে মো. আবুল কাশেম। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরাও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ীরা এমনিতেই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারপর আবার কতিপয় ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের শেল্টারেই মাদক বিক্রি করে থাকে। এমনকি সবসময় তাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করে থাকেন। এছাড়া তাদের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসা করলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। ফলে সবসময়ই এরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে সূত্রটি অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ জানায়, এবার রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাও হালনাগাদ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মাদকবিরোধী অভিযানও চলমান রয়েছে। ফলে প্রায় দিনই মাদক কারবারিদের আটকের পাশাপাশি উদ্ধার হচ্ছে-গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ রকমারী মাদকদ্রব্য। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, চুনুপুটিদের পাশাপাশি এবার রাঘববোয়ালদেরও ধরতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদকের প্রশ্নে কোন আপস নেই। মাদক নির্মূল করা আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। যেকোনো মূল্যে আমরা মাদক দমন করবো। মাদক নির্মূলে আমরা সফল হবো। তরুণ প্রজন্ম আমাদের সম্পদ। এই সম্পদ তথা মেধাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে মাদককে অবশ্যই নির্মূল করতে হবে। তাই মাদক নির্মূল অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ তাদের ‘গডফাদারদের’ আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আপতদৃষ্টিতে এই অভিযান সফল হলেও আগামীতে ফের মাদক ব্যবসায়ী তৈরি হবে মন্তব্য করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech