চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে এবার ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ

  

পিএনএস ডেস্ক : চট্টগ্রামের বিতর্কিত বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে এবার মারা যাওয়া এক রোগীর স্বজনদের ভুতুড়ে বিল ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে, ওই রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের কৌশল ধরে ফেলায় দুইবার বিল সংশোধন করে কর্তৃপক্ষ। পরে এক লাখ দশ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করে লাশ বের করেন মৃত রোগীর স্বজনেরা।

শনিবার সকালে ৬৬ বছর বয়সী সাইফুদৌল্লাহ খাঁন নামে এক ব্যক্তি ম্যাক্স হাসপাতালে মারা যান। প্রয়াতের শ্যালক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত জানান, হাসপাতাল থেকে পাওয়া বিলে বিভিন্ন অসংগতি পেয়ে তা তথ্য প্রমাণসহ প্রতিবাদ করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুইবার বিল সংশোধন করে তৃতীয়বার বিল তৈরি করে দেয়।

তিনি বলেন, আমার দুলাভাই গত ২৯ জুন দুপুর সাড়ে ৩ টায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হন। গত চারদিনে আমরা ডাক্তার কল দিয়েছি দুইবার অথচ তারা বিলে চার্জ দেখিয়েছে চারবার ডাক্তার কল করেছি। দুলাভাইকে হাই ফ্লো অক্সিজেন না দিয়েও তারা বিল করেছে। তারা প্রথমে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪ টাকার বিলের রসিদ আমাদের দেয়। এরপর যখন হাইফ্লো সম্বন্ধে তাদের জিজ্ঞাসা করি এবং তথ্য প্রমাণ দিয়ে উপস্থাপন করে প্রতিবাদ করলে তারা হাই ফ্লো অক্সিজেনের টাকা বাদ দেয়।

এরপর বিলটা সংশোধন করে আমাদের ১ লাখ ৫১ হাজার ৮১৪ টাকার বিল তৈরি করে দেয়। কিন্তু উক্ত সংশোধনী বিলেও কিছু ভুল থাকায় প্রতিবাদ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে ৩য় সংশোধিত বিল তৈরি করেন যা ১ লাখ দশ হাজার টাকায় সমাধান করে হাসপাতাল থেকে লাশ বের করি।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ৮৩ হাজার টাকার ভুতুড়ে বিলের হিসাব দেখায় ম্যাক্স হাসপাতাল। আমরা বুঝতে পেরেছি বলে তারা ওই টাকা আদায় করতে পারেনি। কিন্তু যারা হয়তো খেয়াল করে না রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাদের কি অবস্থা হয়? আমাদের যে সর্বশেষ ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিল দেয়া হয়েছে, এখানেও অনেক টাকা বেশি রাখছে। তারা কিছু টেস্ট করেছে যা রোগ সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া অন্যান্য অসংগতিও আছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে কেবিন নম্বর ভুলের কারণে হয়েছিল। ৭০৫ নম্বর কেবিনের হাই ফ্লো ব্যবহার হয়েছে যা ভুল বশত ৯০৫ নম্বর কেবিনের বিলে যোগ হয়েছে। এটা ভুল হয়েছে। বিল কমানো হয়েছে, ওটা তো সমাধান হয়ে গেছে।

এর আগেও হাসপাতালটিতে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অবহেলায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যু অভিযোগ রয়েছে, এছাড়া গর্ভাবস্থায় অবহেলায় শিশু মৃত্যু এবং স্বয়ং হাসপাতালটির এক চিকিৎসককেও করোনাকালীন সময়ে ননকোভিড হয়েও ভর্তি না করানোর অভিযোগ রয়েছে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন