হাওরাঞ্চলে বানভাসিদের সেমাই কেনা নিয়েই সংশয়!

  

পিএনএস ডেস্ক: রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। এদিন বাড়ি-বাড়ি পছন্দের পশু জবাই করবেন কেউ কেউ। কেউবা আবার এ কাজে সহযোগিতা করবেন। এদিন সকাল থেকে উৎসবের আমেজ শুরু হবে। কিন্তু হাওরাঞ্চলে এই ঈদুল আজহা ঘিরে উৎসবের আমেজ নেই। বাড়ি-ঘরসহ চারদিক ঘিরে আছে বন্যার পানি। তাই দুর্ভোগে আছেন সুনামগঞ্জের এসব অঞ্চলের মানুষজন।

টাংগুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা জয়পুর গ্রামের আয়েশা বেগম জানান, সবাই যখন ঈদের আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত তখন আমরা দুমুঠো খাবার জোগাড়ের জন্য চিন্তা করতে হচ্ছে। সেখানে ঈদের আনন্দ মানেই ভিন্ন কিছু। তাই ঈদের আনন্দে সময় কাটানোর অবস্থা আমাদের নেই। কোরবানি দেয়াতো দূরের কথা ঈদের দিন পরিবারকে একটু সেমাই খাওয়াতে পারব কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ১১ উপজেলার বাসিন্দারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ভিজিএফ, ভিজিডি ও বয়স্ক ভাতার অনুদানেই বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু খুঁজছেন কেউ কেউ। এ অবস্থায় বন্যার পানিতে যবুথবু তাদের ঈদ আনন্দ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভরপুরসহ ১১টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। পানি কিছুটা কমলেও ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী ও হাওরপাড়ের মানুষ।

জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউপির বাগগোয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। প্রতি বছরই জমিতে ভালো ফসল হওয়ায় এলাকার মানুষ স্বচ্ছল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এ বছর পর পর তিন বার বন্যার পানি বসত ঘরে উঠায় মানুষের ঘরে রাখা ধান-চালও নষ্ট হয়ে গেছে। এক কথায় বন্যার পানিতে তাদের ঈদ আনন্দ শেষ।

তাহিরপুর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, আমার উপজেলায় পরপর তিনবার বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাওরপাড়ের মানুষ খুবেই কষ্ট করছে। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন