যমুনা নদী থেকে তিন জুয়াড়ির মৃতদেহ উদ্ধার

  

পিএনএস ডেস্ক: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে অর্ধকোটি টাকার জুয়ার আসরে সংঘর্ষের ঘটনায় যমুনা নদীতে নিখোঁজ তিন জুয়াড়ির ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে দুইজন ও ৩০ কি.মি. দূরে অপরজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃতরা হলেন- সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ছানোয়ার হোসেন ছানু (৪০), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের মৃত জমসের খাঁনের ছেলে হাফিজুর রহমান খাঁন (৪৫) ও ভুয়াপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের ফজল মিয়া (৪০)।

এর মধ্যে ছানোয়ার হোসেন ও ফজল মিয়ার মৃতদেহ সংঘর্ষের ঘটনাস্থল সরিষাবাড়ী উপজেলার বাশুরিয়া চরাঞ্চল থেকে রোববার বিকেল ৩টার দিকে এবং হাফিজুর রহমানকে প্রায় ৩০ কি.মি. দূরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাসিদখল চরের গভীর যমুনা নদীর তীর থেকে দুপুর ১২টার দিকে মৃত অবস্থায় অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পর সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ সরিষাবাড়ীর সীমানায় পাওয়া দুইজনের মৃতদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া করছিলো।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. ফজলুল করীম জানান, গোপালপুর সীমানায় পাওয়া লাশটি গোপালপুর থানার পুলিশ উদ্ধার ও ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করবে। দু’টি মৃতদেহ আমরা উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া করছি।

এদিকে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশকে ক্লোজড করেছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়। শনিবার সন্ধ্যায় তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী ও কনস্টেবল মনির উদ্দিনকে জামালপুর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এসআই ইউনুস আলী ও কনস্টেবল মনির উদ্দিনের মধ্যস্থতায় তারাকান্দি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা মাসোহারা নিয়ে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে চর বাশুরিয়া এলাকার যমুনায় জেগে ওঠা চরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চালাতে দিতেন। এখানে প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৪০-৫০ জন জুয়ারির প্রতিদিন দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বাজিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার জুয়া খেলা চলতো। জুয়ার আসরে আধিপত্য বিস্তার ও টাকার ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে গত বৃহষ্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জুয়ারিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন আহত হয়। ঘটনাস্থলেই তিন জুয়ারি গভীর যমুনায় নিখোঁজ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শিবলী সাদিক বলেন, জুয়ার আসর চালানো নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত ও অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঘটনার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহার জুয়া সংক্রান্ত হিসেবে তিনি স্বীকার না করলেও ‘কর্মস্থল পরিবর্তন পুলিশের বিভাগীয় কার্যক্রমেরই অংশ’- বলে মন্তব্য করেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন