ড্রেজিং ঠিকাদারী কাজে অভারলেপিংঃ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং নানামুখী জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : নদী ও নৌপথ-এর ড্রেজিং কাজের ঠিকাদার নিয়োগে ব্যাপক হারে অভারলেপিং হচ্ছে। চিহ্নিত কিছু ঠিকাদার হাতে কাজ থাকা সত্ত্বেও তাদের সক্ষমতার বাইরে নতুন নতুন কাজের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘কাটার সাকশান ড্রেজার’ ব্যবহার করার কথা থাকলেও কোন কোন ড্রেজিং ঠিকাদার কাজ নিয়ে সেগুলো সাব-কন্ট্রাক্টরদের মাধ্যমে সম্পাদন করছে। এই সমস্ত সাব-কন্ট্রাক্টর ড্রেজিং করার পরিবর্তে স্যান্ড কাটার বা বাল্ক হেড কিংবা এসকেভেটার ব্যবহার করছে। এতে শুধু কাজের শর্তই লংঘিত হচ্ছে না বরং নদী ভাঙ্গনেও নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আবার কোন কোন ড্রেজিং ঠিকাদার ড্রেজিং-এর পরিবর্তে মাটি বা বালু বিক্রয়কে প্রধান্য দিচ্ছে। এই রকম পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলোর পক্ষে ড্রেজিং কাজ মনিটরিং ও বাস্তবায়নে ব্যাপক সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সূত্রে মতে, অনেক ড্রেজিং প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে আছে। পাউবে’র ‘বুড়িগঙ্গা পূণরূদ্ধার প্রকল্প’ অনেকটাই হিমাগারে চলে গেছে। তবে হিমাগারে যাওয়ার আগেই কয়েক শত কোটি টাকা লোপাট বা অপচয় হয়েছে। এই রকম পরিস্থিতি শত শত প্রকল্পের কপালে জুটেছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে আর্থিক অপচয় আকাশচুম্বী হলেও বাস্তবে কাজের কাজ হয়নি কিছুই।

সূত্রমতে, পাউবো’র প্রকল্প বাস্তবায়নে ড্রেজিং কাজ সংযুক্তকরণের অজুহাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন থাকায় অনেক প্রকল্পে প্রয়োজন না থাকলেও ড্রেজিং কাজ সংযুক্ত করে অর্থ লোপাটে নয়ছয় করা হচ্ছে। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পাউবো’র প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি স্যান্ডবার অপসারণের কথা থাকলেও কারো কারো উর্বর মস্তিস্কপ্রসূত চিন্তার ফসল হিসাবে স্যান্ডবার বাদ দিয়ে পাশের চ্যানেলে ড্রেজিং করার সিদ্ধান্তের কথা শোনা যাচ্ছে। দেশের নদী বিশেষজ্ঞগণ এই খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, পাউবো’র নড়িয়ায় বিদ্যমান স্যান্ডবার বহাল রেখে পাশের চ্যানেলে খনন আত্মঘাতী। এ ধরণের কাজ করা হলে অর্থ্যাৎ চ্যানেলে ড্রেজিং করা হলে তা নড়িয়ার প্রতিরক্ষা কাজকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌপথ খননে দীর্ঘদিন মান বজায় রাখা সম্ভব হলেও সম্প্রতি ঠিকাদাররা কাজের চাপে অভারলোডেড হয়ে পড়ায় আগামীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিতে পারে। কোন কোন ড্রেজিং ঠিকাদাররের কাছে বর্তমানে আগামী দুই বৎসরের কাজ রয়েছে। এই সমস্ত ড্রেজিং ঠিকাদারদের যদি নতুন করে কোন কাজ দেয়া হয় তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক জটিলতা দেখা দিবে। বর্ণিত পরিস্থিতিতে আগামীতে ঠিকাদার নিয়োগের সময় ঠিকাদারের কয়টি ড্রেজার আছে বা সক্ষমতা কতোটা আছে এবং কি পরিমাণ কাজ তাদের হাতে রয়েছে তা জানতে টেন্ডার স্পেসিফিকেশানে শর্ত সংযুক্ত করা যেতে পারে।

দেখা গেছে, একটি চিহ্নিত ড্রেজিং ঠিকাদার ডিপিএম পদ্ধতি, ডেলিগেটেড ওয়ার্ক এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কাজ নিয়ে একবারেই বিপর্যস্ত। কোন ভাবেই নতুন কাজ নেয়ার বা করার মতো আর সক্ষমতা নেই। তবুও প্রতিষ্ঠানটি কাজ সংগ্রহে মরিয়া। এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী তাদের কাজ দিতেও আগ্রহী। কারণ, ঐ ঠিকাদার ভাল অংকের কমিশন দিয়ে থাকে। অপর একজন ড্রেজিং ঠিকাদার ড্রেজিং কাজের মোঘল-ই-আযমে পরিণত হয়েছে। এরা কাজ নিয়ে দরপত্রদাতাদের ঝুলিয়ে রাখে। এই রকম ড্রেজিং ঠিকাদারের ব্যাপারে খোজ-খবর নেয়া অত্যন্ত জরুরী।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদী-খাল বাঁচাতে অভ্যন্ত তৎপর। এমতঃপরিস্থিতিতে প্রত্যেকটি ড্রেজিং প্রকল্প যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech