বিআইডব্লিউটিএ’র সুরতহালঃ ড্রেজিং বিভাগের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের পাহাড় সমান সম্পদঃ দুদক করে কি?

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : বিআইডব্লিউটিএ’র শীপ বিল্ডিং সেক্টরের কোন ঠিকাদারই গত এক যুগে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও অধিকাংশ শীপ বিল্ডিং প্রতিষ্ঠান পথে বসেছে। বিভিন্ন বাহানায় চিহ্নিত এক দুর্নীতিবাজ তাদের শোষণ করেই পথে নামিয়েছে। নয়নাভিরাম ডকইয়ার্ড/শীপইয়ার্ড, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং বিপুল টাকার বিনিয়োগ চলে গেছে ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এবং তার অনুগত শিষ্যদের পেটে। এতে করে কোন কোন শীপইয়ার্ড সময় মতো কাজ বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ধারের নামে ঘুষ, কাজ মানসম্মত হয়নি বলে ঘুষ, সময় মতো কাজ বুঝিয়ে না দেওয়ার জন্য ঘুষের কারবার করেছে ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এবং তার কয়েকজন সাগরেদ। দুর্নীতি দমন কমিশন কয়েকবার এই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও তার সাগরেদদের সম্পত্তির হিসাব চেয়েছে। কিন্তু ড্রেজিং ইউনিটের দুর্নীতিবাজদের হাত এতোটাই লম্বা যে, বিভিন্ন পদ্ধতিতে তারা সম্পদের বিবরণ প্রদান না করে নিরাপদেই আছে। ড্রেজিং ইউনিটের এই শীর্ষ দুর্নীতিবাজের নগদ টাকা আছে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে। এই নগদ টাকার লেনদেন করছে ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের জনৈক সাগরেদ যিনি ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতা। এই নেতার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। শোনা যায়, ছাত্রলীগে যোগদানের আগে ঐ ছাত্রলীগ নেতা ছাত্র শিবির করতেন। হাওয়া ভাবনেও তার যাতায়াত ছিল। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথেও তার সখ্যতা ছিল। বর্তমানে তিনি ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের নগদ টাকার পাহাড়াদার। ঐ ছাত্রলীগ নেতার আয়-ব্যয় এবং সম্পদের পরিমাণও যাচাই করা দরকার। ড্রেজিং কাজের তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের বেনামী ব্যবসা রয়েছে বলে প্রচারণা রয়েছে। সেখানে বেনামে তার একাধিক ড্রেজার রয়েছে। ড্রেজিং ইউনিটের এই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ এবং তার সাগরেদদের সম্পদের বিবরণ দুর্নীতি দমন কমিশন খতিয়ে দেখলেই দেশের নৌপথগুলো প্রাণ ফিরে পাবে।

এদিকে, ২৬টি নৌপথে বিগত ১২ বছরে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই নৌরুটগুলোতে কতো টাকা খরচ করা হয়েছে এবং নৌপথগুলোর বর্তমান অবস্থা কি তা খতিয়ে দেখলেই ব্যাপক ফাঁক-ফোঁকর প্রমাণিত হবে। নৌপথগুলো হলোঃ ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ (মেঘনা নদী) ২। ঢাকা-বরগুনা নৌপথ (খাগদান নদী) ৩। ঢাকা-দূর্গাপাশা কারখানা-বগা-ঝিলনা-পটুয়াখালী নৌপথ ৪। গলাচিপা পটুয়াখালী নৌপথ ( লোহালিয়া-লাউকাঠি নদী ৫। বরিশাল নাজিরপুর লালমোহন নৌপথ (তেতুলিয়া নদী ) ৬। লাহারহাট ভেদুরিয়া-শ্রীপুর ফেরীঘাট ৭। ঢাকা-বরিশাল নৌপথ ৮। বরিশাল নদী বন্দর (উলানিয়া-কালিগঞ্জ নৌপথ ১০। হরিনা-আলুবাজার নৌপথ ১১। চাঁদপুর শরিয়তপুর ফেরীঘাট ১২। ঢাকা-চট্টগ্রাম-টেকনাফ নৌপথ ১৩। কক্সবাজার নৌপথ ১৪। ভোলার চর ১৫। ঘোড়াউতড়া নদী ১৬। বরদিয়া-মাদারীপুর নৌপথ (মধুমতি নদী) ১৭। মাদারীপুর-কবিরাজপুর নৌপথ। ১৮। পিয়াজখালী-কাওড়াকান্দি নৌপথ ১৯। ময়নাকাটা নদী-কুমার নদ ২০। জাজিরা-মাদারীপুর নৌপথ ২১। মাদারীপুর-টরকী-হোসনাবাদ-ফাসিয়াতলা নৌপথ ২২। টরকীনালা গৌরনদী ২৩। সিনদিয়ার ঘাট-ভাঙ্গা-বাকুন্দা নৌপথ ২৪। দ্বীক নগর ব্রীজ ২৫। টরকী বাজার গৌরনদী ২৬। দাউদকান্দী-হোমনা নৌপথ সহ অসংখ্যক প্রকল্প।

এদিকে, ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ শুধু ঘুষই খায় না। ড্রেজিং এর মাটি বাণিজ্যও করে থাকে। কক্সবাজারে মাটি বাণিজ্য করতে গিয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

এদিকে, ড্রেজিং ইউনিটের দুর্নীতি এবং অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা এই প্রতিনিধিকে মারধোর এবং প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। মিথ্যা মামলা করার হুমকি দিতেও কার্পন্য করেনি।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, ড্রেজিং ইউনিটের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের কি পরিমাণ সম্পদ আছে তা যাচাইয়ে দুদক তাদের সম্পদ বিবরণী তলব করতে পারে।

ভূক্তভোগীমহল এ ব্যাপরে দুদক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিস্তারিত তদন্ত দাবী করেছে। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন