ঢাবি ‘ঘ ইউনিট’: ফের পরীক্ষা দিতে হবে পাস করা শিক্ষার্থীদের

  

পিএনএস ডেস্ক : ঢাবি ঘি ইউনিটে পাস করা শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষা নিতে পারে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ডিন কমিটি বৈঠককের এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাবি উপাচার্যা অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আজ দুপুরে ডিনস কমিটির সভার পর এসব তথ্য জানান তিনি।

গত ১২ ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি একজন ভর্তিচ্ছুর মোবাইলে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে প্রশ্ন পাওয়ার প্রমাণ পায়। তা সত্ত্বেও পরীক্ষা বাতিল না করে গত ১৬ অক্টোবর ফলপ্রকাশ করা হয়। এদিন থেকে বিভিন্ন সংগঠন ঘ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের দাবি করতে থাকে।

এর আগে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের বিতর্কিত ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় নেয়া বা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভর্তি পরীক্ষা নেওয়াসহ চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত মৌন পদযাত্রা করে ছাত্রলীগ। পরে উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন কক্ষে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি প্রদান করার সময় ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সেখানে যোগ দেন এবং ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য সবাই অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সেখানে প্রশ্নফাঁস করে ভর্তি হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সাধারন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি। আমরা চাই মেধাবীরা যেন বঞ্চিত না হয়। প্রশ্নফাঁসের প্রমান পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসনও স্বীকার করেছে। মিডিয়াতে এসেছে। আমরা চাই আবার পরীক্ষা নেয়া হোক। যদি সম্ভব না হয় তবে যারা পাশ করেছে তাদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।’

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস স্মারকলিপি পাঠ করেন। স্মারকলিপিতে প্রদত্ত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন তিনি। তাদের দাবিগুলো হলো- যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া অথবা শুধুমাত্র উত্তীর্ণদের নিয়ে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, প্রশ্নফাঁস বা ডিজিটাল জালিয়াতির সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, অতীতে যারা প্রশ্নফাঁস করে ভর্তি হয়েছে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী মানসম্মত ভর্তি পরীক্ষার স্বার্থে পলিসি ডিবেটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে।

পিএনএসস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech