হুদার স্ত্রীর সঙ্গে রাবি উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ফাঁস!

  

পিএনএস ডেস্ক:সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াসহ নানা মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলেও উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণাদি না থাকাও সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এক চাকরিপ্রার্থীর স্ত্রীর সঙ্গে উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার নিয়োগবাণিজ্য সংক্রান্ত ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ইতোমধ্যে এ খবর গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল সোমবার থেকে রাবি শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই ফোনালাপ।

একজন উপ-উপাচার্য থাকা সত্ত্বেও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহানের সুপারিশে চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে দ্বিতীয় উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। সেই দ্বিতীয় উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে চাকুরিপ্রার্থীর স্ত্রীর ফোনালাপটি ব্রেকিংনিউজ পাঠকের জন্য স্ক্রিপ্ট আকারে হুবহু তুলে ধরা হলো-

উপ-উপাচার্য: হ্যাঁ, সাদিয়া। আমি প্রফেসর জাকারিয়া (চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর।

চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী: আসসালামু আলাইকুম স্যার।

উপ-উপাচার্য: ওয়ালাইকু আসসালাম। আচ্ছা মা, একটা কথা বলো তো, তোমরা কয় টাকা দেয়ার জন্য রেডি আছ।

চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী: স্যার, সত্যি কথা বলতে...

উপ-উপাচার্য: না না, সত্যি কথাই তো বলবা। ওপরে আল্লাহতায়ালা, নিচে আমি।

চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী: অবশ্যই, অবশ্যই। স্যার, আপনি যেহেতু তার অবস্থা জানেন, আরেকটা বিষয় এখানে স্যার, সেটা হচ্ছে- আপনি হুদার... মানে, এমনিতে সে কতটা স্ট্রিক..., আপনি বোধহয় এটাও জানেন স্যার, একটু রগচটা ছেলে।

উপ-উপাচার্য: আচ্ছা রাখো রাখো, এখান থেকে কথা বলা যাবে না।

তবে চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীর সঙ্গে নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে ফোনালাপের বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে জাকারিয়া বলেন, ‘কী জানি, কোন মেয়ে কখন আসছে। আমি মেয়েদের সঙ্গে কথা তো কমই বলি, টেলিফোনে আমি বলি যে, তোমার সঙ্গে দেখা করারও দরকার নেই, কথা বলারও দরকার নেই।’

গেল বছর নভেম্বরে ওই চাকরিপ্রার্থীর স্ত্রীর সঙ্গে উপ-উপাচার্যের দরকষাকষি হলেও শেষ পর্যন্ত ওই প্রার্থীকে আইন বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়নি। মোহাম্মদ নুরুল হুদা নামের ওই প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরুল হুদা রাবির আইন বিভাগ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে অনার্সে ৩.৬৫ জিপিএ ও মাস্টার্সে ৩.৬০ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। আইন অনুষদে সেরা ফলাফলের পুরস্কারস্বরূপ ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক এবং ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ করেন ওই কৃতি শিক্ষার্থী।

এর পর গেল বছরের শেষ দিকে রাবির আইন বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও নুরুল হুদাকে বাদ দিয়ে এই বিভাগে অন্য তিনজন প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয়।

অথচ নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজনের একজন উপ-উপাচার্য জাকারিয়ার জামাতা সাইমুন তুহিন। অপর দু’জনের মধ্যে একজন হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডর মেয়ে নুসরাত সুলতানা ও অপরজন বনশ্রী রানী নামের রাবির আইন বিভাগ থেকে পাস করা এক শিক্ষার্থী।


পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech