৩০০ বছরের ইতিহাসে লালবাগ শাহী মসজিদের প্রথম এই রুপ

  

পিএনএস ডেস্ক: সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা সংলগ্ন রাস্তাঘাটে সুনসান নীরবতা। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৬টা ২২ মিনিট। ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লালবাগ শাহী মসজিদ থেকে ভেসে আসছিল মাগরিবের আজান। মসজিদের সামনে যেতেই দেখা যায় প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। ফটকে নোটিশ ঝুলছে ‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে অদ্য ৬ এপ্রিল মাগরিব হইতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মুসল্লিগণ নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করিবেন।’

আজানের পর মসজিদে এলেও ফটকে তালা দেখে এবং নোটিশ পড়ে কয়েকজন বয়স্ক মুসল্লিকে ফিরে যেতে দেখা যায়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ১৭০৩ সালে নির্মিত এ মসজিদের বর্তমান ধারণক্ষমতা দেড় হাজারেরও বেশি। প্রতি ওয়াক্তে কমপক্ষে হাজারখানেক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। কিন্তু আজ মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় মসজিদের গেটে তালা ঝুলছে। একজন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হিসেবে মসজিদে নামাজ পড়তে না পারায় মনে কষ্ট পেলেও মানুষের জীবনরক্ষার স্বার্থে সরকারের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন তারা। তারা আরও জানান, এখন থেকে বাসায়ই নামাজ আদায় করবেন।

আজান শেষে সদর দরজার স্বচ্ছ কাচের ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, গোটা মসজিদ যেন খাঁ খাঁ করছে। জনাকয়েক মুসল্লি ভেতরে পায়চারী করছেন। অল্প সময় পরেই নামাজে দাঁড়ান ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সর্বসাকুল্যে পাঁচজন।

এ দৃশ্যপট শুধু লালবাগ শাহী মসজিদেই নয়, রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতেই সর্বোচ্চ পাঁচজন মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় হচ্ছে।

জানা যায়, করোনার বিস্তাররোধে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দুপুরে জারি হওয়ার পর থেকেই মসজিদগুলোর ফটকে তালা ঝুলতে থাকে। পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় সব মসজিদ থেকে মাইকে এই মর্মে ঘোষণা ভেসে আসে, ‘সরকারি নির্দেশে এখন থেকে মুসল্লিরা বাসায় নামাজ আদায় করবেন। সাধারণ ওয়াক্তে ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সর্বোচ্চ ৫ জন এবং জুমায় সর্বোচ্চ ১০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন।’

আজিমপুর, পলাশী, নিউপল্টন ও মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার একাধিক মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মসজিদের প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালা মারা। কোথাও নোটিশ ঝুলছে আবার কোথাও মুসল্লিরা মিডিয়া মারফত জেনে গেছেন যে, মসজিদে উপস্থিতি সীমিত করার আদেশ জারি হয়েছে।

আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি আসরের ওয়াক্তে মাইকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ঘোষণা করেছি। তবু আসরের ওয়াক্তে ভুল করে কিছু মুসল্লি চলে আসায় শেষবারের মতো নামাজ পড়তে দেয়া হয়। মাগরিব থেকে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন