রায় নিয়ে বিতর্ক সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল

  


পিএনএস ডেস্ক: সংবিধান প্রণেতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন মনে করেন, রায় নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংবিধানের ১১১, ১১২ অনুচ্ছেদ সর্বোচ্চ আদালতকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে, তারা বিচার-বিশ্লেষণ করে যে রায় দেবেন- তাই চূড়ান্ত। তাছাড়া সর্বোচ্চ আদালতের ৭ জন বিচারকই সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছেন। তা নিয়ে বিতর্ক করা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করার পরিণতি কখনও ভালো হয় না। যদি বুঝতাম যে কেউ ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তাহলেও কথা ছিল। এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যে সভা-সমাবেশ হচ্ছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত, সংবিধানের অবমাননা। এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে রায় পেয়েছি।

এ রায়ের মধ্যদিয়ে বিতর্কের অবসান হয়েছে। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা মোটেও সমীচীন নয়। তিনি বলেন, সমালোচনাকারীরা জাতীয় জাদুঘরে যেতে পারেন, গিয়ে দেখতে পারেন বঙ্গবন্ধু কি লিখে দিয়ে গেছেন? সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদই হচ্ছে আমাদের রক্ষাকবচ, গাইডলাইন। এতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ- কেবলই সংবিধানের অধীন এবং কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। এরপরেও কেন আমরা বিতর্ক করছি বুঝতে পারি না। পক্ষে গেলে ঠিক আছে, বিপক্ষে গেলে মানি না- এই মনোভাবের অবসান হওয়া জরুরি।

ড. কামাল বলেন, পুরো রায়টি পড়েছি। কোথাও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়নি। তার কোনো অবমূল্যায়ন করা হয়নি। অপব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। সত্যিকার অর্থেই এটা দুঃখজনক। দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে এমন ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, রায়ের মধ্যদিয়ে এটা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, যদিও কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না। না মানাটা সংবিধান পরিপন্থি, বলতে পারেন বরখেলাপ। সংবিধান মানলে ১১১ অনুচ্ছেদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কোথায়? ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করবেন। সূত্র: মানিবজমিন

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech