ভারত খুলে দিয়েছে বাঁধ, দীর্ঘমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ভারত গজলডোবার অর্ধশতাধিক বাঁধ ছেড়ে দেয়ায় এবং টানা অতি বর্ষণে দেশের উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় বন্যা ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে। ২১টি জেলার ৪ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার এক লাখ ৭২ হাজার ২১৭ হেক্টর জমির ফসলহানি ঘটেছে।বন্যায় এ পর্যন্ত ১৬০ জন প্রাণ হারিছে। প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এবারের বন্যা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। ২০০ বছরের মধ্যে বর্তমানের বন্যা ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করেছেন। অতি বর্ষণ, ভারতের ছেড়ে দেয়া পানির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল বন্যাকে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সিলেট বিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে।

দেশের বড় বড় নদ-নদীতে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই পানি ক্রমেই একের পর এক অঞ্চল গ্রাস করছে, তলিয়ে নিচ্ছে ফসলের মাঠ। বন্যার পানিতে ভেসে এবং সাপের কামড়ে ইতিমধ্যে দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগায়ে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ১৪ জন এবং লালমানিরহাটে একই পরিবারের ৪ জন প্রাণ হারায়।

বিরামহীন ভারী বৃষ্টি ও বন্যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। ছাতা-নৌকা ছাড়া ঘরের বের হতে পারছেন না বন্যাদৃর্গতরা। দিনমজুররা পড়েছেন মহাবিপাকে। আয় না থাকায় তাদের কষ্টের সীমা নেই। তৃতীয়বারের মতো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিলেটের মানুষ চোখে সরষেফুল দেখছেন। তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আবার ব্যর্থ হচ্ছেন নতুন করে আসা বন্যার কারণে।

সিলেটের বন্যাদুর্গতদের নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত যে অপ্রতুল ত্রাণ সহযোগিতার যে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল, সেটাও বন্ধ হবার পথে। সেটা চালু রাখা না হলে বন্যাদুর্গতরা ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হবে। ফসল হারানো সাধারণ কৃষক ও দিনমুজরদের কথা বিবেচনা করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখা সময়ের দাবি।

আমাদের পাশের দেশ তথা বন্ধু রাষ্ট্র ভারত। স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কিন্তু মাঝে-মধ্যে তাদের কিছু কাজ আমাদের জন্য পীড়ার কারণ হয়। যেমন ফারাক্কা, টিপাইমুখসহ উজানে ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা। বঞ্চনার এই দিকটি দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের যারপরনাই হতাশ করছে।

শুধু কী তাই- শুকনো মৌসুমে পানি না দিয়ে মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে মানুবসৃষ্ট বন্যায় বাংলাদেশকে তলিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রকৃতির খেয়ালের মতো এই কাজটা ভারত অবলীলায় করে আসছে। ৩১ জনের মৃত্যু এবং বিপুল পরিমাণ ফসলহানি এবং সম্পদের সীমাহীন ক্ষতির পরও আমাদের দায়িত্বশীলরা রহস্যজনক নীরব!

ঘটনাটা অনেকটা এই রকম- ‘রোম যখন পুড়ছে, নীরু তখন বাঁশি বাজাচ্ছে।’ আমাদের যখন শুকনোর সময় পানি ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে শুকিয়ে মারছে, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে ডুবিয়ে মারছে তখনো আমাদের দেশের একশ্রেণীর রাজনীতিক তাদের বন্দনায় ব্যস্ত। সময়ের ফেরে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় যাদের অবস্থান যত তলানীতে- তাদের গলাবাজি ও ক্ষমতা ততই বেশি।

দেশের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরো ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা বিরাজমান। সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বন্যা ঝেঁকে বসার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকাও বন্যা গ্রাস করতে পারে। এ অবস্থায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। এ জন্য এখন থেকেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের মজুদ রাখতে হবে।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech