সংসদ ভবনের খেজুর গাছগুলো থেকে রস আহরণে বাধা কোথায়?

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : খেজুর সুন্নাতে রাসুল। খেজুর দিয়ে ঈফতার করলে অধিক পুণ্য হয়। এটি সুন্নাতে রাসুলের পাশাপাশি শারীরিকভাবে শক্তিবর্ধক। খেজুরে প্রচুর ক্যালরি থাকে। আরবের মানুষ এমনকি মহানবী খেজুর খেয়ে জীবন ধারণ করতেন বলে হাদিসে আছে।

পবিত্র কোরআন ও রাসূলুল্লাহর (সা.) হাদীস থেকে খেজুরের গুণের কথা জানা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে রয়েছে ২৭৫ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ৭৩.১৫ ভাগ শর্করা, ৭.৫ ভাগ আঁশ। এছাড়া আছে লৌহ, দস্তা, ফসফরাস, ক্যালসিয়ামসহ প্রয়োজনীয় সব খনিজ উপাদান, ১৮টি এমাইনো এসিড ও খাদ্যপ্রাণ। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা রয়েছে। খেজুর খুব সুস্বাদু ও ক্ষুধা নিবারক।

যে খেজুরের কথা বলছি, সেগুলো সৌদি আরবের খুরমা খেজুর। আর আজ যে খেজুরে কথা বলার চেষ্টা করব, সেটা আমাদের দেশী খেজুর। মূলত কথা বলব, খেজুর গাছের সুস্বাদু রস নিয়ে। যে রসের রকমারি ব্যবহার রয়েছে। মানুষ তৃপ্তি মিঠায় এই রসের হরেক রকম খাবার দিয়ে।

শীত মৌসুমে আমাদের দেশে খেজুর রস ও গুড়ের দেখা মিলে। খেজুরের রস অসাধারণ। এটি যেমন মিষ্টি তেমনি মুখরোচক। এটিতে একধরনের মজা আছে, যে মজা অন্য রসে তেমন পাওয়া যায় না। অনেকে বলে থাকেন, এটিতে নাকি মাদকার ভাব আছে। ফলে এটি খেলে চাঙ্গা ভাব আসে।

আজ যে কারণে বিষয়টির অবতারণা, তাহলো- আমাদের দেশের মধ্যে বৃহত্তর যশোহর, বরিশাল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ খেজুর গাছ , এর রস এবং গুড়ের জন্য খ্যাত। অন্য এলাকায়ও আছে, তবে উল্লিখিত জেলাগুলো খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য প্রসিদ্ধ।

রাজধানী ঢাকাবাসী খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য এসব জেলায় ধরনা দেয়। অথচ আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন ঘিরে বিশেষ করে ভবনের পূর্ব পাশে অসংখ্য খেজুর গাছ রয়েছে। যে গাছগুলো থেকে খেজুরের রস আহরণ করা হলে, তা দিয়ে ঢাকাবাসীর তৃপ্তি মিটানো সহজেই সম্ভব।

বাঙালির রসনা তৃপ্তি মিটানোর এমন একটি উৎকৃষ্ট উপাদন সবার সামনে থাকা সত্ত্বেও এটির সদ্ব্যবহারে আমরা কতটা অপারগ ও অমনোযোগী- সংসদ ভবনের খেজুর গাছগুলো, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। জানান দিচ্ছে সম্পদের সঠিক ব্যবহারে আমাদের অপারগতার বিষয়ও।

আমাদের জনপ্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদে যান। যান মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তারা। আসা-যাওয়ার পথে তাদের চোখে সংসদ ভবনের খেজুর গাছগুলো সহজেই পড়ার কথা। পড়লে এ নিয়ে ভাবার কথা। কিন্তু তারা যদি ভাবতেন, তাহলে বছরের পর বছর এগাছগুলোর রস থেকে ঢাকাবাসী বঞ্চিত হতো না।

সচিব-এমপি-মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার, সংসদ সচিবালয়সহ অন্য কর্মকর্তাদের কথা বাদ দিলেও সংসদ এলাকার পূর্বপাশে খামারবাড়ির কৃষি কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিকদের দৃষ্টিতে কি খেজুর গাছগুলো পড়ে না! না পড়লে ভালো। আর পড়লে তারা এগুলো নিয়ে কেন ভাবছেন না, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না সচেতন মানুষ।

এত এত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে যেখানে খোদ রাজধানী এমনকি জাতির ভাগ্য নির্ধারণের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা খেজুর গাছগুলোর সুস্বাদু রস গ্রহণ উপেক্ষিত, সেখানে তারা অজাড়াগায়ের বিষয়ে কতটা সচেতন ও দক্ষ- তা বুঝতে কারো কষ্ট হয় না। বিষয়টি রীতিমতো পীড়া দিচ্ছে কৃষিঅন্তপ্রাণ মানুষকে।

যারা চোখের সামনে থাকা শত শত খেজুর গাছের সদ্ব্যবহারে চিন্তা করতে অপারগ, তাদের মতো জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দেশ–জাতির ভাগ্য নিয়ে কতটা ভাববেন আর সফল, সে প্রশ্ন সামনে চলে আসে। শীত আসি আসি করছে, সময় এখনো আছে, সংসদ ভবনের আশপাশের খেজুর গাছগুলো থেকে সুস্বাদু ও তৃপ্তিদায়ক রস আহরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech