ভরা মৌসুমে পচা পিঁয়াজ নিয়ে দাদাদের আবদার !

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : চাহিদার সময় সে দ্রব্য আমরা পাইনি; বরং অস্বাভাবিক মূল্যে কিনেতে হয়েছে, সেই পচা পিঁয়াজ গিলানোর জন্য দাদারা যখন উঠেপড়ে লাগে, তখন অবাক না হয়ে পারা যায় না। এসব দেখে লজ্জাও লাগে বৈকি। তাদের লাগে কিনা জানি না।

খবরে প্রকাশ, ভারত বিভিন্ন রাজ্যের চাহিদা মেটাতে যে পিঁয়াজ আমদানি করেছে, সেই পিঁয়াজের বেশির ভাগ এখনো গুদামেই রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে পচে গেছে যার ৩৫ শতাংশ । উদ্বৃত্ত এই পচা পিঁয়াজ কিনতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানায় ভারত।

আমাদেরকে না দিলেও ভারতে বিভিন্ন গুদামে থাকা পিঁয়াজ এখন পচতে শুরু করেছে। এসব পিঁয়াজ পচতে শুরু করায় বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পচা ও নিকৃষ্টমানের এসব পিঁয়াজ কেউ কিনতে রাজি নয়। ফলে এসব পিঁয়াজ আমাদের খাওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

কে না জানে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের গভীরতা। যে সম্পর্ক মাঝেমাঝে অজানা কারণে ঘোলাটে মনে হয়। ফলে সুহৃদরাও বিভ্রান্ত হয়। সীমান্ত হত্যা ও সাম্প্রতিককালে হঠাৎ পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এ ধারণার সৃষ্টি হয়। পিঁয়াজ নিয়ে আমাদের দেশে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।

সচরাচর পিঁয়াজ আমাদের দেশে ২০-৩০ টাকার বেশি কেজি বিক্রি হয় না। কিন্তু এবার বলা নেই কওয়া নেই ভারত হঠাৎ আমাদের দেশে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা যারপরনাই সমস্যায় পড়ি। আর ৩০ টাকা কেজির পিঁয়াজ ৩০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হন ক্রেতাসাধারণ।

ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা শুনে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে দায়িত্বশীলদের মাথায়। আর এটাকে লুফে নেয় অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তারা ইচ্ছেমতো মূল্য হাঁকে আর আদায় করে। অথচ গুদামে, আড়তে কোথাও কারো সামান্যতম ঘাটতি চোখে পড়েনি কখনো।

তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে বিদেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানি করা হয়। আমদানি করা পিঁয়াজ নিয়েও অসৎ ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের অরাজকতার সৃষ্টি করে। যার কুফল ক্রেতা সাধারণকে ভোগ করতে হয়। মাঝখানে কতিপয় অসৎ ব্যবসায়ী আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়।

আজ যখন আমাদের নতুন পিঁয়াজ বাজারে উঠেছে, ভরা মৌসুম শুরুর দ্বারপ্রান্তে আমরা তখন নিজেদের অপছন্দের পচা ও নিকৃষ্টমানের পিঁয়াজ আমাদের দেশে রপ্তানির কথা যারা ভাবছে, তাদের মন-মানসিকতা, রুচিবোধ কেবলই হতাশ করে।

অতীতে আমাদের পচা চাল তারা খাওয়াতে সক্ষম হয়েছে। সফল হয়েছে অনেকে ব্যাপারে। তাই বলে একই কাজ বারবার! তারা চেষ্টা করতে পারে বৈকি। কিন্তু এসব কাজে আমাদের কতিপয় ব্যক্তি তো কম যান না। অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, ভারতের মানুষ যেটা খেতে চায় না, সেটা কেন বাংলাদেশকে গেলাতে চাওয়া।

সহজ-সরলভাবে বললে ভারতে যে পিঁয়াজ কোনো রাজ্য এবং কেউ গ্রহণ করতে নারাজ, সে পচা ও নিকৃষ্টমানের পিঁয়াজ আমদানিতে যে বা যারা উদোগী হবে, তারা আবর্জনাতুল্য বৈকি। সচেতন দেশবাসীর সামনে যখন নতুন পিঁয়াজ, তখন তারা পচা পিঁয়াজ ক্রয়ের মতো বোকামি করবে কেন?

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন