দুই কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলার রায়

  

পিএনএস ডেস্ক : রংপুরে মাত্র দুই কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলার রায় দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোস্তফা পাভেল রায়হান এ রায় দেন।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আসামি অনুপস্থিত ছিলেন (জামিনে রয়েছেন)।

গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। গতকাল সোমবার পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শেষে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। দেশে এই প্রথমবারের মতো দুই কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বিশ্বনাথ গ্রামের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজার রহমান (৩৬) এক নিকটাত্মীয়কে কুপ্রস্তাব দেন। কিন্তু ওই নারী রাজি না হওয়ায় উত্ত্যক্ত করতেন। ওই নারী ২০১৯ সালের মে মাসে অন্যত্র বিয়ে করেন। কিন্তু মোস্তাফিজার ওই নারীর স্বামীকে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ থাকার কথা বললে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এই সুযোগে মোস্তাফিজার তাকে আবার কুপ্রস্তাব দেন। পরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দুজনের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর মোস্তাফিজারের স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর গত বছরের ২৮ অক্টোবর মোস্তাফিজার ওই নারীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ওঠেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারী মোস্তাফিজারকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু মোস্তাফিজার রাজি না হওয়ায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি কাউনিয়া থানায় এজাহার দায়ের করতে যান।

থানা এজাহার গ্রহণ না করায় ৮ জানুয়ারি মোস্তাফিজারকে আসামি করে আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই নারী। মামলাটি তদন্তের জন্য রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী রইচ উদ্দীন বাদশা বলেন, বাদীপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। ভিকটিমের মাসহ চারজন সাক্ষীর কেউ ধর্ষণের কথা বলেননি।

মাত্র দুই দিনে হওয়া এ মামলার রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে থাকবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরণের অনেক মামলা আছে, যা ১৮ বছর ধরে ঝুলে আছে। আজকের রায় এর ব্যতিক্রম।

রায় নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানালেও বাদীপক্ষের কৌশুলি ও এপিপি মাকজিয়া হাসান দিবামনি বলেন, দ্রুততম সময়ে দেয়া এ রায় ইতিহাস হয়ে থাকবে। মঙ্গলবার মামলার চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দিলেন।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন