অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ‘পুনর্বিবেচনার’ আহ্বান জাফরুল্লাহর

  

পিএনএস ডেস্ক: অনুমতি ছাড়া রাজধানীতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত না করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেয়া নির্দেশনা ‘পুনর্বিবেচনা’র আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের সামনে সম্প্রতি ঢাকায় মহাখালীর সাততলা বস্তি, মোহম্মদপুরে জহুরী মহল্লার বস্তি ও মিরপুরের কালশীর বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের এই কান্তিকালে, এই দুর্যোগের মুহূর্তে ডিএমপির একটি নোটিশ মর্মাহত করেছে। মানুষ চলাফেরা করতে পারবে না, সভা সমাবেশ করার জন্য অবশ্যই পুলিশকে অবহিত করা হবে। কিন্তু অনুমতি নিতে গেলে আপনারা তো অনুমতি দেন না। এটা সবার জানা কথা। কাউকে সংবর্ধনা দিতে দেবেন না, বক্তব্য রাখতে দেবেন না, সমালোচনা করতে দেবেন না- এটা ভালো কাজ না। তাই আমি ডিএমপিকে অনুরোধ করছি, এসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘সভা-সমাবেশের জন্য আপনাদের জানানো হবে, যাতে আপনারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারেন। যতগুলো বিশৃংখলা হয়েছে তার জন্য সরকারই দায়ী। আজকে ভাস্কর্য- মূর্তির ঝামেলা তৈরি করতে সরকার একদিকে মদদ দিয়েছে, অন্যদিকে যখন দেখছে সামাল দেয়া যাচ্ছে না তখন এই অবস্থা...।’

সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না। মিছিল মিটিংয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে যারা করছেন তাদের প্রতি আবেদন কোনোভাবেই যেন গাড়ি-চলাফেরায় বিঘ্ন না হয়।’

ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমাদের ক্ষুদ্র চেষ্টা, ক্ষতিগ্রস্তদের সামান্য সাহায্য করা। এদেরকে সামান্য সাহায্যের জন্য সরকারের কাছেও আবেদন করছি। এইসব জায়গায় সাহায্য করেন। বস্তিগুলোতে আগুন দিয়েছে কারা, আপনারা (সরকার) তা প্রকাশ করেননি।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্যের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদির আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণস্বাস্থ্যের এইচ আর পরিচালক আকলিমা খাতুন ও কর্মকর্তা শাহানাজ।

ডাকসুর সবেক ভিপি নুরুল হক নূর ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদউল্লাহ মধুর নিকট এক হাজার কম্বল ও এক হাজার পরিবারের খাদ্য সামগ্রী হস্তান্তর করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। হস্তান্তর শেষে এসব ত্রাণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বৃত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্যের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদির আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অসহায় মানুষদের শীতকালে আরেও ত্রাণ সাহায্য দেবো বলে আশা রাখি।’

ইতোমধ্যে করোনাকালীন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ২০ হাজার অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বলেও জানান তিনি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন