ব্যর্থতা ভুলে নতুন মিশনে নামবে বাংলাদেশ

  

পিএনএস ডেস্ক: ব্যর্থতা ভুলে নতুন মিশন নিয়ে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুঃস্বপ্নের দুই টেস্ট ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সামনে। এর আগে আজ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে মাশরাফি-সাকিবরা।

দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ব্লুমফন্টেইনেই হবে আজকের প্রস্তুতি ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

টেস্টের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে ওয়ানডেতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল টিম বাংলাদেশ। আসন্ন এ সিরিজও তাই চ্যালেঞ্জিং।

প্রোটিয়া দলে ফিরেছেন এবি ডিভিলিয়ার্স। শক্তি বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা। বাংলাদেশ দলের চিত্রও বদলে গেছে। দলে যোগ দিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জা ও সাকিব আল হাসান।

এ ছাড়া তরুণ পেসার সাইফকে নেয়া হয়েছে এ সিরিজে। এ ছাড়াও তামিম স্কোয়াডে থাকলেও ইনজুরির জন্য ব্লুমফন্টেইনের টেস্ট ম্যাচ খেলেননি। এরই মধ্যে সেরে উঠেছেন তিনিও। সব মিলিয়ে পেছনের ব্যর্থতা ভুলে নতুন শুরু চায় এখন টিম বাংলাদেশ।

আজ প্রস্তুতি ম্যাচেই সে পরিবর্তন দেখাতে চায় তারা। দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস যেমনটি বলছিলেন, মাশরাফি ভাই দলে ফেরায় সবাই এখন উৎফুল্ল। তিনি বিভিন্নভাবে সব খেলোয়াড়কে উৎসাহ জোগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এমনিতেই মাশরাফি সবার খোঁজখবর রাখেন একজন অভিভাবকের মতোই। এতে সতীর্থতা খুবই উজ্জীবিত। বিশেষ করে টেস্ট সিরিজে যে ব্যর্থতা এবং এরপর কঠোর সমালোচনা গেছে তাতে। বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে অনেক দিন আগে। গত জুনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছিল। শেষ ম্যাচে এজবাস্টনে ভারতের সাথে বাজে খেলে হারলেও তার আগের ম্যাচে কার্ডিফে তারা হারিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডকে। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ওই অনুপ্রেরণা নিয়েই এ সিরিজ খেলবেন তারা।

এ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছে বেনোনিতে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে সফর শুরু করেছিল বাংলাদেশ দল। সে ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং ভালোই হয়েছিল। কিন্তু ওই ম্যাচের ছিটেফোঁটা পারফরম্যান্সও প্রদর্শন করতে পারেনি টিম বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচে। সে ম্যাচের উইকেট ছিল ফাট। ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচের উইকেটের ধরন কেমন হয়, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। যদিও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্কোয়াডে রয়েছে প্রোটিয়া দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এবি ডিভিলিয়ার্স ও জেপি ডুমিনি। আছেন টেস্ট স্কোয়াডের ওপেনার মার্করাম। ফলে উইকেট পারফেক্ট হওয়ারই কথা, যা ওয়ানডেতেও দেখা যাবে। কারণ এ ম্যাচ খেলে ফিরছেন ওই সব ক্রিকেটারও।

এ দিকে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির ওপরই এখন সব ফোকাস। কারণ মুশফিক ইস্যুতে একটা দূরত্বও সৃষ্টি হয়ে গেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট ও খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মুখ ফুটে বলার নিয়ম নেই। বলেনও না কেউ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে মুশফিক ইস্যুতে ক্ষিপ্তও ক্রিকেটাররা। মুশফিক যেমনটি বলেছিলেন, ম্যাচ জিতলে সব ক্রেডিট টিম ম্যানেজম্যান্টের আর ব্যর্থতার সব দায়ভার আমাদের। অনেক কষ্টেই কথাগুলো বলেছিলেন তিনি।

মাশরাফি এই দু’পক্ষের সমন্বয়ের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবেন। যদিও মাশরাফির হজম শক্তি আবার বেশি। কারণ টি-২০ নিয়ে তার সাথেও কম করেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। তবুও এখন সিরিজই মুখ্য। তা ছাড়া ক্রিকেটারদের একটা ধর্ম রয়েছে। সব সমালোচনার উত্তর দেন তারা পারফরম্যান্স দিয়ে। সেটিরই অপেক্ষায় হয়তো তারা; যার প্রস্তুতি আজই করে রাখবেন মাশরাফি-মুশফিক-তামিম-সাকিবরা।

এদিকে মূল সিরিজের আগে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকা ১৬ ক্রিকেটারের সবাইকে পরখ করে নেয়ার সুযোগ পেলেও স্বাগতিকরা তা পাচ্ছে না। স্বাগতিকদের পুরো স্কোয়াড পরখ করার সুযোগ না থাকলেও দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাশরাফিদের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে প্রত্যাবর্তন করতে যাওয়া এবি ডি ভিলিয়ার্স-জেপি ডুমিনিরা এই ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শেষ মুহূর্তের অনুশীলনের ঘাটতি ও ত্রুটি সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পাবেন।

টেস্ট স্কোয়াডে থাকা প্রোটিয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ওপেনার এইডেন মারক্রাম, কেশব মহারাজদের দেখা মিলবে প্রস্তুতি ম্যাচের দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের স্কোয়াডে।

ব্লুমফন্টেইনের উইকেট সাধারণত বাউন্সি ও পেসারদের অনুকূলে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে প্রস্তুতি ম্যাচের উইকেটও এমনই হবে যেখানে পেসারদের আধিপত্য থাকবে। সাথে স্পিনাররাও নিজেদের জাদু দেখোনোর জন্য উইকেট থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য পাবেন বলেও ধারণা পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে দুই দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজটি আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে। সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ২২ অক্টোবর।

বাংলাদেশ স্কোয়াড : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও সাইফউদ্দিন।

দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশ : জেপি ডুমিনি (অধিনায়ক), ম্যাথু ব্রিজকে, এমবুলেলো বুদাজা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, বরান হেন্ড্রিকস, হেনরিক ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মালডার, মালুসি সিবোতো ও খায়া জোন্ডো।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech