প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ: আইএমএফ

  


পিএনএস ডেস্ক: চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির বিশ্ব অর্থনীতির চালচিত্র প্রতিবেদন ২০১৭ এ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক গতিধারা সম্পর্কে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুক-২০১৭ প্রকাশ করে। এতে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে ঠেকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল ৬ শতাংশ। আর চলতি হিসাবের ভারসাম্যে নেতিবাচক অবস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছে আইএমএফ।

সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হবে, যা গত অর্থবছরে ছিলো দশমিক ৭০ শতাংশ। আইএমএফ বলছে, আগামী ২০২২ সাল পর্যšø বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ হারে।

যদিও সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে। আর বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করেছে সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সবসময়ই সরকারের তুলনায় জিডিপির যে প্রক্ষেপণ কম করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের ব্যাখ্যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক এসব সংস্থা সবসময়ই পুরোনো তথ্যের ওপর প্রক্ষেপণ করে। আর সরকারের হিসাব হয় হালনাগাদ তথ্যে। যেকারণে এই পার্থক্য দেখা যায়।

আইএফএফ এবছর বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে যে হিসাব প্রকাশ করেছে তা অর্থমন্ত্রণালয়ের থেকে পাওয়া ২০১৫ ও ২০১৬ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারের প্রাথমিক হিসেবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। যা সরকারের লক্ষ্য ৭ দশমিক ২০ শতাংশেরও বেশি। ওইসময় আইএমএফ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাংক ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছিল।

এবছরও বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তার আগে এডিবি সম্প্রতি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৭’-এ বলেছে, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেশকিছুদিন ধরে বলে আসছেন, প্রবৃদ্ধির হার আর সম্প্রতি ৭ শতাংশের নিচে নামবে না।

আইএমএফের বিবেচনায় এশিয়ার সম্ভাবনায় বাজার ও অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। এছাড়া রয়েছে সার্ক দেশের মধ্যে ভুটান, ভারত, শ্রীলংকা ও নেপাল রয়েছে এ তালিকায়। এবছর সম্ভাবনায় দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে

সোমালিয়া। ১৯৩ দেশের অর্থনীতির হালচাল পঞ্জিকা বছরের হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। যদিও বাংলাদেশের হিসাব হয় অর্থবছরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতবছরের মাঝামাঝি থেকে বিশ্ব অর্থনীতি গতি পেয়েছে। এর আগে বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র ছিল ভিন্ন। প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক খাতে অস্থি’রতা দেখা দেয়। এ অবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি পাল্টে গেছে। ইউরোপ, জাপান, চীন, আমেরিকার অর্থনীতি গতি পেয়েছে। যা বদলে দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। আর্থিক খাতে চাঙ্গাভাব তৈরি হলেও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা রয়েছে। অর্থনীতির উর্ধ্বমূখী ধারা ধরে রাখতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয ব্যাংক আর্থিক নীতি সহজ করার নীতি অব্যাহত রেখেছে। এ ইতিবাচক পরিবর্তন আরও আস্থাশীল হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মনে করছে আইএমএফ।

তবে আইএমএফ হুশিয়ার করে বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতির এ পরিবর্তন টেকসই নাও হতে পারে। মধ্যমেয়াদে অনেক দেশের অর্থনীতির গতিধারা সন্তোষজনক নাও থাকতে পারে। এছাড়া কিছু আর্থিক খাত বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বিশেষকরে ভৌগলিক অস্থিরতা বা বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক সংঘাত, দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুশাসনের দূর্বলতা ও দুর্নীতি, বিরুপ আবহাওয়া এবং সন্ত্রাস ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech