বাজেটে স্বাস্থ্যখাত কি গুরুত্ব পেল?

  

পিএনএস( আহমেদ জামিল) : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষাসামগ্রী দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে মাস্ক ও পিপিই আছে। কিন্তু ‘এন-৯৫’ নামে যেসব মাস্ক দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যখাতের চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি-লুটপাট হচ্ছে অহরহ। তবে স্বাস্থ্যখাতে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের দিকে নজর ছিল দেশের সকল মানুষের। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় বেরিয়ে আসছে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি-লুটপাট চিত্র।

স্বাস্থ্যখাতে ২০২০-২১ অর্থবছরের "কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে যে জরুরি এবং অপ্রত্যাশিত আর্থিক প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তা মেটাতে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে মূলত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।"

তবে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় দুটি জরুরি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। একটি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এক হাজার ১২৭ কোটি টাকার। অন্যটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দেয়া এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য খাতে এতদিন কতটা কম মনোযোগ দেয়া হয়েছে এবং কত বড় ধরনের সংস্কার এক্ষেত্রে দরকার।
তাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে অনেকেরই ধারণা ছিল এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাত অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে। কিন্তু বাজেটে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনায় তেমনটা দেখা যায়নি।
এই অর্থ বছরের প্রস্তাবিত মোট বাজেটের ৭.২ শতাংশ অর্থাৎ ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ স্বাস্থ্য খাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরের তুলনায় তিন হাজার কোটি টাকার মতো বেশি।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় চারটি খাতকে এবার সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ তার শীর্ষে রয়েছে স্বাস্থ্য৷ তিনি বলেছেন, ‘‘স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷’’

তবে মোট বাজেটে শতকরা হিসেবে স্বাস্থ্যখাত বরাদ্দ পেয়েছে ৫.২ ভাগ৷ তার চেয়েও বেশি বরাদ্দ আছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি, সুদ পরিশোধ, স্থানীয় সরকার, পরিবহন ও যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা ও জনপ্রশাসনে৷

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি৷ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷''

এদিকে স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ করার দাবি জনিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ঘোষিত ১১দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (২১ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল সহকারে সচিবালয়ে অবস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জোটের নেতারা। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশে বক্তারা বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম দুর্দশা ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনাকে পুঁজি করে ত্রাণ চুরিসহ স্বাস্থ্যখাতের চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি-লুটপাটে ব্যস্ত। সব দাবি উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে অতীতের মতো এবারও তারা লুটপাটের এক বাজেট ঘোষণা করেছে।’

এসময় বাম জোট নেতারা বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন বাজেট প্রণয়ন করে স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটের ২০ ভাগ বরাদ্দ, প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন, দিনে কমপক্ষে ৫০ হাজার পরীক্ষা করা, ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ, ডাক্তার, নার্সসহ ফ্রন্ট লাইনারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি জানান তারা।
এবার শুধু করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণায় ১০০ কোটি টাকা। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী যারা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কাজ করছেন তাদের জন্য ৮৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় যেসব সুরক্ষা সামগ্রী রয়েছে যেমন মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই, সেগুলোর দাম কমবে। হাসপাতালে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির দামও কমবে।

১৩০ পাতার বাজেট প্রস্তাবনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণের জন্য যে অংশ রয়েছে, সেখানে কী করা হয়েছে, কী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেটিই বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু দুর্নীতির কেলেঙ্কারির বিষয় সামনে এসেছে। গত বছরের শুরুতে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল স্বাস্থ্য খাতে ১১ টি উৎস থেকে দুর্নীতি হয়, যার মধ্যে রয়েছে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ঔষধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পণ্য কেনাকাটা।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন