পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পদত্যাগ দাবিতে ইরানে বিক্ষোভ

  14-06-2026 06:40PM

পিএনএস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে ইরানে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ের বাইরে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা আরাঘচির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন, বিশেষ করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তার টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর এই উত্তেজনা তৈরি হয়।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা নারীরা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে অপমানজনক আরাঘচির মৃত্যু হোক এবং সে একজন অনুপ্রবেশকারী ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন এবং লাল ও কালো পতাকা নেড়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত এই শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করছেন ইরানের কট্টরপন্থী কিছু গোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, এই চুক্তি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে না এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দেবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ইরানি বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা আগের মতো থাকবে না এবং এটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ কৌশলের অংশ।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, তবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এমন ভিডিওতে তেহরানেও বিক্ষোভকারীদের আরাঘচি পদত্যাগ করো এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চুক্তিটি রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে দাবি করা হলেও তেহরান এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময় নিশ্চিত করেনি।

এর আগে, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সম্ভাব্য যুগান্তকারী চুক্তির আভাস দেওয়া হচ্ছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তবে চুক্তিটি এখনও চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি বলে গভীর রাতে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিটি মূলত দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে, যার অধীনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং নতুন করে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

আরাঘচি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্বেই থাকবে, তবে এর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা অতীতের চেয়ে ভিন্ন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি গভীর অনাস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রাথমিক খসড়াটি এখনও তেহরানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে কিছুটা রহস্যময়ী বার্তায় লিখেছেন, যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কোনো যদি বা কিন্তু কিংবা অজুহাত চলবে না। সামনে যে চুক্তি রয়েছে, তার জন্য এর বাইরে কোনো পথ নেই। যেমন কর্ম, তেমন ফল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা চুক্তির যে সাতটি পয়েন্ট প্রকাশ করেছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি ছিল— পরমাণু কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান কোনো ছাড় দেয়নি। ট্রাম্প একে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে অ্যাক্সিওস নিউজকে বলেন, ইরান ইতিমধ্যেই এই ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছে। ট্রাম্প এখনও আশাবাদী যে, চলতি সপ্তাহের শেষেই এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই কূটনৈতিক তৎপরতার ঠিক দুদিন আগেই গত ৮ এপ্রিল থেকে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ট্রাম্প একপর্যায়ে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করারও হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও পরে আলোচনার স্বার্থে হামলা স্থগিত করেন। হোয়াইট হাউজের স্পষ্ট বার্তা— ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে; তবেই মিলবে অবরুদ্ধ তহবিল।

সূত্র : গালফ নিউজ

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন