ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩০

  28-06-2026 10:37AM


পিএনএস ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বুধবার ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার রাত থেকে এলাকাটিতে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি উদ্ধারকারী দলের সংকটের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দারাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করছেন। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

সরকার জানিয়েছে, লা গুয়াইরা এলাকায় প্রবেশ করতে হলে এখন থেকে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হবে। তবে কারা সেই অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতার দাবি করলেও সবচেয়ে বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে রাষ্ট্রীয় উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি খুবই সীমিত।

জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, 'প্রতিটি জীবিত উদ্ধারই এখন অলৌকিক ঘটনা। এই বিপর্যয়ের প্রকৃত ভয়াবহতা আমরা আড়াল করব না।'

সরকারি বাহিনী লা গুয়াইরায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, জীবিতদের উদ্ধারে এই সংকটময় সময়ে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোকে স্বাগত জানান।

রদ্রিগেজ জানান, লা গুয়াইরা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আরও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনো খুবই অপ্রতুল।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) শনিবার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ৪৭০ কোটি থেকে ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

এদিকে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাধীন ডিজিটাল ডেটাবেজগুলোতে কয়েক হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি এবং কিছু তথ্য একাধিকবার নিবন্ধিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এর মধ্যে রাজধানী কারাকাসেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ রয়েছেন।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, 'নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের বাস্তুচ্যুতি আরও বাড়বে। তাই দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।'

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক লয়স পেস বলেন, 'অনেক মানুষ এখনো নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।'

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ বিদেশি উদ্ধারকর্মী দেশটিতে পৌঁছেছেন। তবে আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির ভেনেজুয়েলা পরিচালক নিকোল কাস্ট বলেন, 'জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও উদ্ধার সক্ষমতায় এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।'

এদিকে মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বহু মানুষ এখনো স্বজনদের খুঁজে পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাবে অনেকেই জানেন না তাদের স্বজনরা কোথায় আছেন কিংবা উদ্ধার হওয়া মরদেহ কোথায় নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন