পিএনএস ডেস্ক: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা না থাকলে ইরানের পরিণতিও গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমাদের প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। তারা নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দিত না।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কখনোই, কারও সঙ্গেই কোনো আলোচনা করব না।'
এ সময় তিনি চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারো ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দুর্বল বিমান প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণে শুরু হওয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এখন দেশটির সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা প্রসঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জি৭ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন, কিছু দেশের কাছে এসব অস্ত্র থাকা এবং অন্যদের কাছে না থাকা ন্যায়সঙ্গত নয় বলে তিনি মনে করেন।
পিএনএস/এমএইউ
‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতি গাজার মতো হতো’
24-06-2026 02:55PM

