খামেনির জানাজা কেন ৪ মাস পর, কীভাবে রাখাছিল মরদেহ?

  04-07-2026 12:22PM

পিএনএস ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর তাঁর মরদেহ থাকা কফিনটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ এই নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান। মহান নেতার শেষ বিদায় উপলক্ষে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে সপ্তাহজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। সবশেষে তাঁকে ইরানের মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই জানাজায় বিদেশি অতিথিসহ লাখো মানুষের সমাগম ঘটতে পারে।

শুক্রবার বিভিন্ন ইরানি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রাক-জানাজা অনুষ্ঠানে কালো পোশাক পরা শোকাহত মানুষের ভিড় এবং লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতি দিয়ে সাজানো পরিবেশও দেখা যায়।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মৃত্যুর পরপরই জানাজা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রস্তুতি শেষ হলে তেহরান, কোম এবং ইরাকের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাঁর জন্মস্থান উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

জানাজা কেন চার মাস পর?

ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফনের প্রচলন থাকলেও খামেনির দাফন চার মাসেরও বেশি সময় পরে অনুষ্ঠিত হওয়াকে অনেকেই অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ সময় দাফন না হওয়ায় কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন, মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণেই দাফন বিলম্বিত হয়েছে। তাঁদের মতে, পুরো সময়জুড়ে মরদেহ ধর্মীয় বিধান মেনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইসলামে সাধারণত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হয়।

সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ প্রায় নিশ্চিতভাবেই রাসায়নিকভাবে নয়, বরং হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। তাঁর মতে, ইসলামে রাসায়নিক সংরক্ষণ অনুমোদিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া শরিয়তে দাফনে বিলম্ব এবং শীতল পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুমোদন পাওয়াও কঠিন নয়।

তাঁর মতে, ইরানের ফরেনসিক মর্গে দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে, তাই চার মাস হিমায়িত অবস্থায় রাখা অস্বাভাবিক নয়।

উল্লেখ্য, ইরান সরকার এই শোকানুষ্ঠানকে জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত শোকের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক প্রতীকে খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি এবং “আমাদের জেগে উঠতেই হবে”—এই স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে।


পিএনএস/মোআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন