কুয়েতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করলো ইরান

  14-07-2026 01:36PM

পিএনএস ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও একটি কৌশলগত রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে এই বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করা হলেও, স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে তা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের নূর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ‘শত্রুর গতিবিধি’ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই বিশাল আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

তেহরান এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘চোখের বদলে চোখ’, যা মূলত ইরানে চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

আইআরজিসি-র বিবৃতি অনুসারে, তাদের এই সমন্বিত অভিযানটি মোট তিনটি স্তরে চলেছে। প্রথম স্তরে জর্ডানের ‘প্রিন্স হাসান’ বিমাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ঘাঁটিটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।

অভিযানের দ্বিতীয় স্তরে আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স বাহরাইনের ‘শেখ ঈসা’ বিমানঘাঁটিতে জোরালো আঘাত হেনে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, একটি পি-৮ বিমানের একটি হ্যাঙার ও একটি মার্কিন ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করে। আক্রমণের চূড়ান্ত ও তৃতীয় স্তরে কুয়েতের ‘আলী আল-সালেম’ বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ‘আহমেদ আল-জাবের’ বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি।

তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তারা আর কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না ও তাদের এই প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের এই বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক আগের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে যুদ্ধবিমান, নৌ-রণতরী এবং আত্মঘাতী ড্রোন ও সামুদ্রিক ড্রোনের সাহায্যে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করা হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর ও ইরান কোনোভাবেই এটি নিয়ন্ত্রণ করে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ সেন্ট্রাল কমান্ড লেখে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি আদেশে ও নির্দেশনায় ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এবং বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন সময় বিকেল ৫টা থেকে এই হামলা শুরু করা হয়েছিল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন