যাকাতের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাঈদীর বিচার শুরু, সাক্ষ্য ১৭ ফেব্রুয়ারি

  

পিএনএস ডেস্ক: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) যাকাত তহবিলের অর্থ আত্মসাতের মামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কারাগারে থাকা জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে গতকাল সোমবার (১১ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক সৈয়দা হোসনে আরার আদালত চার্জ গঠনের আদেশ দিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

যাকাতের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাঈদীসহ রয়েছে মোট ৬ আসামি। অপর ৫ আসামি হলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল হক, মসজিদ কাউন্সিল ফর কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বন্ধুজন পরিষদের প্রধান সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ ইউনুস, ইসলামী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হক।

৬ আসামির মধ্যে সাঈদী কারাগারে, আবুল কামাল আজাদ ও আব্দুল হক পলাতক এবং অপর ৩ আসামি জামিনে রয়েছেন।

ইফার যাকাত তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আইয়ুব আলী চৌধুরী ২০১০ সালের ২৪ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী।

অন্যদিকে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকা আয় গোপন করে তার ওপর প্রযোজ্য কর ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৮১২ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১১ সালের ১৯ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মামলাটি দায়ের করে। ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে সাঈদীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। এর আগে থেকেই কারাগারে আছেন ৮০ বছর বয়সী সাঈদী।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায় পরবর্তী তিন দিনে দেশজুড়ে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ব্যাপক সহিংসতায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন। ভাঙচুর করা হয় বহু গাড়ি-দোকানপাট, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি-মন্দির ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেয়া রায়ে সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এরপর রিভিউ আবেদনেও রায়ে কোনও পরিবর্তন আসেনি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন