হাওরের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হাওর অঞ্চলের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। হাওর অঞ্চলে বন্যা দেখা দেবেই। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কেউ যেন না খেয়ে, গৃহহারা হয়ে না থাকে, সেটাই আমাদের দেখার কাজ।’

বন্যাদুর্গত হাওর এলাকা পরিদর্শনকালে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের কলেজমাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি নেত্রকোনার গৃহহীন মানুষের তালিকা দ্রুত তৈরি করে পাঠাতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা হাওরের মানুষ, আমি বাঁওড়ের মানুষ। টুঙ্গিপাড়া এলাকায় হাওরের মতো ছোট ছোট বাঁওড় আছে। আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এ জন্য বর্তমান সরকার হাওরবাসীর দুঃখ মোচনে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

এ বছর মার্চ মাসের আগাম বৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আগাম বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি হয়। নষ্ট হয় হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। মৎস্য সম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ এপ্রিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জে যান। বন্যার পর আজকের সফরটি হাওরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর।

আজকের সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে বর্তমানে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকে আরও খাদ্য সরবরাহ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য সরকার ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত কৃষিঋণ আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সময়ের কৃষিঋণের সুদও মওকুফ করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, নৌকায় ভোট দিলে মানুষ খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা পায়। সুখে-শান্তিতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। মানুষের কল্যাণই আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসে লুটপাটের জন্য। এরা ক্ষমতায় থাকলে লুটপাট করে, আর বিরোধী দলে গেলে মানুষ পুড়িয়ে মারে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি?

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পদক্ষেপের বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আর তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা ছাড়া আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তাই আমরা একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১ কোটি ৩০ লাখ মায়ের নামে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য উপবৃত্তি দিচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। স্কুলগুলোতে বিনা মূল্যে বই দিচ্ছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করেছি। ইন্টারনেট সুবিধা সহজলভ্য করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মানুষ বিনা পয়সায় ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছে।’

খালিয়াজুরীতে ছোট-বড় ৮৯টি হাওর আছে। এ হাওরগুলোর ২০ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। বন্যায় হাওরগুলোর বাঁধ ভেঙে পুরো জমির ফসলই নষ্ট হয়। নেত্রকোনায় বোরোর আবাদ হয় ১ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হন ১ লাখ ৬৭ হাজার কৃষক।
খালিয়াজুরী কলেজমাঠে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি ওই কলেজের মাঠে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন। ভাষণ শেষে জনগণের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ১ হাজার ২০০ মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২০ জনের মাঝে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিডবোটে করে নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা বল্লভপুর পরিদর্শন করেন। ওই সব এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গত ১২০টি পরিবারের মধ্যে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। তিনি বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওঠেন। সেখানে শিশুদের কাছে জানতে চান তারা বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই পেয়েছে কি না, শিশুরা ইতিবাচক জবাব দিয়ে সমস্বরে একসঙ্গে বলে, ‘আমরা বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই পেয়েছি।’

খালিয়াজুরীর সমাবেশে মন্ত্রীরা যা বললেন: পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘এবারের আগাম বন্যা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নেব। বাঁধ নির্মাণে কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে ছাড় পাবে না। এ মাসের মধ্যেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, এ দুর্যোগকে পুঁজি করে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করে। আগামী বোরো ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে আট লাখ মানুষের মধ্যে ৩ লাখ ৮৬ হাজার মানুষের ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ করে টাকা প্রদান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের ‘না’ বলতে কোনো জিনিস নেই। তিনি হাওরবাসীকে দুশ্চিন্তা না করতে বলেন। বিএনপি সমন্ধে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকায় বসে শুধু কথা বলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব কেবল পাশের মদন উপজেলা ঘুরে ফটোসেশন করে চলে গেছেন। কোনো সাহায্যও দেননি। কেবল বড় বড় কথা বলেন।’

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী মায়ের মমতা নিয়ে আসছেন। তিনি মানুষের দুঃখ বোঝেন, তাই এ প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে আসছেন। এর আগে সুনামগঞ্জেও গেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় মঞ্চে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাংসদ ছবি বিশ্বাস, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল প্রমুখ।
বেলা সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech