ফিরে দেখা ’৭১ - রনাঙ্গনের দিন গুলি (৪)

  03-12-2014 07:55PM

পিএনএস (কামাল পাশা দোজা ) : মহান বিজয়ের মাসের চতুর্থ দিন। ৩ ডিসেম্বর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় পাস্তিানের আচমকা বিমান হামলার ফলে- আমাদের মুক্তি যুদ্ব ভিন্ন মাত্রা পায়। একদিকে পাকিস্তানের বিমান হামলা অন্যদিকে ভারতে জরুরী অবস্থা জারির ফলে আক্ষরিত অর্থেই আমাদের মুক্তি যুদ্ব নতুন মাত্রা পায়।

পাকিস্তান বিমানবাহিনী ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বরেই আচমকা ভারতের আগরতলা, অমৃতসর, পাঠানকোট, শ্রীনগর, অবন্তিপুর, উত্তরলাই, যোধপুর, আম্বালা ও আগ্রা বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। বিকেলে কলকাতা প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভাষণদানকালে এ খবর পান। দিল্লি ফিরে তিনি রাতেই আকাশবাণী দিল্লি বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের যুদ্ধ ভারতের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে’। ভাষণের আগেই রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ভরতীয় পূর্বাঞ্চল কমান্ডের লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরার অধিনায়কত্বে ঘোষিত হয় বাংলাদেশ ভারত যুক্ত কমান্ড।



ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী মিত্রবাহিনী নাম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিমান হামলা শুরু করে। ভারতীয় বিমানবাহিনী গভীর রাতেই বাংলাদেশের সব মুক্ত এলাকায় পৌঁছে যায়। সব রুট দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর অবিরাম বিমান হামলা চালিয়ে বাংলাদেশের সব বিমান ঘাঁটি অচল করে দেয়। কুর্মিটোলা এয়ারপোর্টে ৫০ টন বোমা ফেলা হয়। পাকিস্তানের এক ডজনের ওপর বিমান বিধ্বস্ত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুক্ত হওয়া ভারতীয় বিমান হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অধ্যায়।

ভারতের রণপ্রস্তুতির মোকাবেলায় সাহায্যের জন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি ১৯৫৯ সালের পাক-মার্কিন চুক্তি অনুযায়ী সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। পাক-ভারত রণ হুংকারের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালাতে থাকে। এর ফলে ৪ ডিসেম্বর দেশের উল্লেখযোগ্য অংশ হানাদারমুক্ত হয়।



মনোবল বাড়ে বাংলার দামাল ছেলেদের, সময় ঘনিয়ে আসতে শুরু করে মানচিত্র শত্রুমুক্ত হওয়ার। ৩ ডিসেম্বরেই পাকিস্তান এয়ারলাইন্স পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সব ফ্লাইট বাতিল করে। সামরিক কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকায় সান্ধ্যআইন জারি করে। সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।
লেখকঃ বিশিস্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট।


পিএনএস/দোজা/শাহাদাৎ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন