যথাযথ মর্যাদায় দেশব্যাপী মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

  16-12-2014 04:12PM

পিএনএস ডেস্ক : ১৬ ডিসেম্বর যথাযথ মর্যাদায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট।

পিএনএস নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বিজয়ের প্রথম প্রহরে স্বাধিনতার ৪৪ তম মহান বিজয় দিবসে নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ বেদিতে প্রথমে পুস্পমাল্য অর্পন করেছেন সড়ক ও সেতু পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পরে নোয়াখালী জেলার পক্ষে থেকে জেলা প্রশাসক বদরে মুনীর ফেরদৌস, পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ পুস্পমাল্য অর্পন করেন।

অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগ ও অংঙ্গ সংগঠন, জেলা বিএনপি ও অংঙ্গ সংগঠন, গনজাগরন মঞ্চ, নোয়াখালী প্রেস ক্লাব, এপেক্স ক্লাব সহ শতাধিক সামাজিক, সাংষ্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করেন।



সিলেট প্রতিনিধি জানান,মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মবলিদান দেয়া বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢল নেমেছে জনতার। তাদের কন্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার সম্পন্নের দাবি। পুষ্পার্ঘ হাতে সারিবদ্ধভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।



বিজয় দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। এরপর একে একে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।



বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা ও মহানগর, বিএনপি সিলেট জেলা ও মহানগর, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে শীত উপেক্ষা করে শহীদ মিনারে দীর্ঘ অপেক্ষা করে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। ফুলে ফুলে ভরে উঠছে শহীদ মিনারের বেদী।

চাটমোহর, পাবনা প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের ন্যায় পাবনার চাটমোহর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গৌরবগাঁথা মহান বিজয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পলন করা হয়।

বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১টায় একত্রিশ বার তোপধ্বনি এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে পুস্পস্তবক অর্পন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম, চাটমোহর পৌর মেয়র মির্জা মোঃ রেজাউল করিম দুলাল, চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত কুমার সরকার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. একেএম সামছুদ্দিন খবির, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এ্যাড, মোঃ সাখায়োত হোসেন সাখো, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মালেক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহিম কালু, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা নেতী বেগম রোকেয়া আজাদ।



এছাড়া চাটমোহর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ্র, চাটমোহর আরসিএন এন্ড বিএসএন উচ্চ বিদ্যালয়, চাটমোহর মহিলা ডিগ্রী কলেজ, চাটমোহর ব্যবসীক সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি, এনজিও, রাজনৈতীক সংগ্রঠন গুলো উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি/বেসরকারি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অভিবাদন গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টায় উপজেলার বালুচর খেলার মাঠে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক কসরত প্রদর্শন ও পুরুস্কার বিতরণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি ছিলেন পাবনা-৩ এলাকার সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন। সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং স্থানীয় হাসপাতালে, এতিমখানায় অবস্থানরত রোগী ও এতিমদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মহিলাদের ক্রীড়ানুষ্ঠান, চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ খেলার মাটে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সন্ধায় উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উপজেলার রেলবাজার, মূলগ্রাম, ডিবিগ্রাম, ফৈলজানা, মথুরাপুর, হান্ডিয়াল, বিলচলন, হরিপুর, ছাইকোলা, পার্শ্বডাঙ্গা এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতীক, সামাজিক ও স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে।

বেনাপোল, যশোর প্রতিনিধি জানান, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। রক্তস্নাত এই মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানে মঙ্গলবার সকালে যশোরের শার্শা বেনাপোল নাভারন ও বাগআচড়ায় পৃথক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও পথর্যালি হয়েছে। ব্যানার ফেস্টুন,প্লাকার্ড ও রং বেরংয়ের গেঞ্জী গায়ে ব্যান্ডদল সহকারে বিশাল এক র‍্যালি নাভারন ও বাগআঁচড়য়া বাজার প্রদক্ষিন করে। উপজেলার ২০৩জন জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে ফুল ক্রেষ্ট ও গরম কাপড় দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়।



কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্টান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে গার্ড অব অনার, কুচকাওয়াজ, মনমুগ্ধকর ডিসপ্লে, ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাগআচড়ায় আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্টানে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান ইলিয়াজ কবির বকুল, অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ধাবক, আদম শফিউল্লাহ। শার্শা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শার্শা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন,উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মজ্ঞু, ইউএনও এটিএম শরিফুল আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর রহমান, নাসির উদ্দিন, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান আয়নাল হক ও আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

জাবি প্রতিনিধি জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।



সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন। এ সময় প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের, অনুষদ ডীন, রেজিস্ট্রার, হল প্রাধ্যক্ষ, ছাত্র-শিক্ষক, অফিসার ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্যের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন,সমিতি,ক্লাব,ও হল সমুহের পক্ষ থেকে প্রাধ্যক্ষগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে সকালে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন এবং রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক প্রশাসনিক ভবনে যথাক্রমে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ও সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উপাচার্য কাপ হ্যান্ডবল (ছাত্রী) ও উপাচার্য কাপ ফুটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতায় বেগম খালেদা জিয়া হল ও মীর মশাররফ হোসেন হল চ্যাম্পিয়ন হয়। ফুটবল (ছাত্র) খেলায় মীর মশাররফ হেসেন হল আর বেরুনী হলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। এছাড়া হ্যান্ডবল (ছাত্রী) কাছে ৯-২ গোলে পরাজিত হয় শেখ হাসিনা হল।

খেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। খেলা শেষে উপাচার্য বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।



কুবি প্রতিনিধি জানান, বিজয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.আলী আশরাফ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ন’টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শোভাযাত্রা করতে করতে ভিসির নেতেৃত্বে শহীদ মিনারে যান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।



ভিসি প্রফেসর ড. আলী আশরাফের পর শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে জাতীর গর্বিত সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, শিক্ষক সমিতি, প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ।


পিএনএস/সামির/শাহাদাৎ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন