কুমিল্লায় মায়ের কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে ধর্ষণ করলেন চেয়ারম্যান!

  

পিএনএস কুমিল্লা : দেবিদ্বার উপজেলার ৯নং উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম মায়ের কাছ থেকে মেয়েকে (১৪) নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। ধর্ষণের শিকার ওই বালিকা নবম শ্রেণীতে পড়ে।

তোমাদের কষ্ট করে এক রিকশায় যেতে হবে না। তোমার বড় মেয়েকে আমার সাথে দিয়ে দাও। এসময় আমার স্ত্রী আপত্তি জানালেও জোর করে আমার মেয়েকে রিকশায় তুলে নেন চেয়ারম্যান। এ ধর্ষণের ঘটনায় চেয়ারম্যান ও তার সহকারী কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ সবুজের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষিতার বাবা।

একই সঙ্গে রোববার ওই চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাগো হিন্দু পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখাসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।

শনিবার রাতে বাদী হয়ে মামলা করেছেন ধর্ষিতার বাবা পিন্টু দাস। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, তার স্ত্রী লিপিকা দাস গত ২৪ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় অসুস্থ ছোট মেয়ে (প্রতিবন্ধী) রিতু দাসকে (১০) নিয়ে কুমিল্লায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সঙ্গে বড় মেয়ে দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রীও (১৪) ছিল।

চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লা কান্দিরপাড় এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় তাদের। তিনি ঢাকা যাবেন বলে পিন্টু দাসের স্ত্রীকে জানান। এসময় তারা ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় বাড়ি আসার জন্য রিকশায় ওঠেন।

এসময় খোরশেদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি আর ঢাকায় যাব না, দেবীদ্বার চলে যাব। তোমাদের কষ্ট করে এক রিকশায় যেতে হবে না। তোমার বড় মেয়েকে আমার সাথে দিয়ে দাও।’

এসময় তার স্ত্রী আপত্তি জানালেও জোর করে বড় মেয়েকে রিকশায় তুলে নেন চেয়ারম্যান। স্ত্রী ছোট মেয়েকে নিয়ে শাসনগাছা বাস স্টেশনে আসেন। আসার সময় পেছনে রিকশা না দেখে ফোনে কথা বলেন। চেয়ারম্যান জানান, তার রিকশা জ্যামে আটকা পড়েছে।

স্ত্রী শাসনগাছা বাস স্টেশনে নেমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। এর মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং তারা পরের বাসে আসবেন বলে জানান।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, আমার স্ত্রী আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় শাসনগাছা থেকে রিকশায় আবারো তাদের খুঁজতে কান্দিরপাড় ফিরে যান। না পেয়ে দেবীদ্বারে চলে আসেন। রাত ৮টায় আমার মেয়ে তার মা’কে ফোনে বলে, ‘মা আমাকে বাঁচাও’।

এ সংবাদ পেয়ে আমার স্ত্রী কিছু লোকজন নিয়ে থানায় যান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের কাছে ঘটনাটি জানায় এবং আমার মেয়েকে উদ্ধারের মৌখিক আবেদন জানান।

ওসি সাহেব তাৎক্ষণিক খোরশেদ চেয়ারম্যানের সাথে ফোনে কথা বলেন। ওই সময় চেয়ারম্যান ঘটনাটি অস্বীকার করে দেবীদ্বার উপজেলার ছেপাড়া গ্রামে একটি দরবারে আছেন বলে জানান।

তাৎক্ষণিক আমার স্ত্রী ওসি সাহেবের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে মেয়ের খোঁজ নিলে তিনি বলেন, ‘তোমাকে আমি চিনিনা, তোমার মেয়েকেও চিনিনা।’ বলে ফোন কেটে দেন।

পরে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ্ কামাল আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি মোবাইল ট্র্যাক করে খোরশেদ চেয়ারম্যানের অবস্থান শনাক্ত করে বলেন, কুমিল্লা শহরের চকবাজার এলাকায় আছেন।

রাতে আমার স্ত্রী আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোকজন খোরশেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায় মেয়েকে পাঠিয়ে দেবে। আমার স্ত্রী অপেক্ষা করে আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের ভাড়া বাসায় এসে দেখেন আমার মেয়ে বাসার সামনে অপেক্ষা করছে।

মেয়ে জানায়, চেয়ারম্যান তাকে শাসনগাছা বাস স্টেশনের দিকে না এসে রিকশা ঘুরিয়ে চকবাজারের দিকে নিয়ে যান। আমার মেয়ে আপত্তি করলেও তার কোনো কথা

শোনেনি। এক পর্যায়ে শব্দ করলে মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে খোরশেদ আলম আমার মেয়েকে চড়থাপ্পর মারতে থাকে। এসময় অপর অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট মো.

হারুন-অর-রশীদ সবুজ নামে এক লোককে ফোনে বলেন, আমরা আসছি জায়গা ঠিক রেখো।

রিকশা থেকে নামিয়ে তাকে অ্যডভোকেট মো. হারুন-অর-রশীদ সবুজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান চেয়ারম্যান। অ্যাডভোকেট সবুজ তাদের একটি কক্ষ দেখিয়ে দেন।

তখন খোরশেদ চেয়ারম্যান তাকে কক্ষে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। সে কান্নাকাটি শুরু করলে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট মো. হারুন-অর-রশীদ সবুজ তাকে ক্যান্টনমেন্টে এনে রাত ১১টার দিকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে উঠিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, ‘বর্বোরচিত এ ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা আমার জানা নেই, খোরশেদ

চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অপকর্ম করে বহাল তবিয়তে আছে। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি অভিযোগ না করে আমরা কী করবো?’

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ধর্ষিতাকে রোববার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করিয়েছে।

অভিযুক্ত ওই ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবিতে রোববার দুপুরে কুমিল্লার টাউন হলে করা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন-

জাগো হিন্দু পরিষদ এর সভাপতি রাজিব রায়, সাধারণ সম্পাদক রাজন দেবনাথ, সংগঠনটির উপদেষ্টা স্বপন চন্দ্র সাহা, তপন চন্দ্র সাহা, প্রণব কুমার দাস।

এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মানিক ভৌমিক বক্তব্য দেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ৯ নং উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম সম্প্রতি ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া সনাতন

ধর্মাবলম্বী এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

অভিযুক্ত মো. খোরশেদ আলম কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় গুনাইঘর গ্রামের মো. সাদত আলীর ছেলে ও ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এবং

মামলার অপর আসামি উপজেলার ধামতী গ্রামের মৃত. তাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে ও কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশীদ সবুজ।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech