ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে দেখেন চাকরি নেই

  06-06-2026 07:19PM

পিএনএস ডেস্ক : সাভারে তৈরী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপের ৩টি কারখানা থেকে ১ হাজার ৮শ ৬৮জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এরমধ্যে উলাইল এলাকায় একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকায় প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার থেকে ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

আল-মুসলিম গ্রুপের উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় এসকল কারখানার থেকে ১ হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাভারের রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার দুটি কারখানার সামনে ছাঁটাকৃত শ্রমিকদের অনেককে কারখানার সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। অনেককে কারখানার ফটকের পাশের দেয়ালে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের তালিকায় নিজের নামটি খুঁজতে দেখা যায়। কারখানার সামনে জড়ো হওয়া। শ্রমিকেরা দাবি করেন ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয়নি। ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা।

ছাঁটাই কিন্তু শ্রমিকদের একজন সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগে আমাদের ২০ দিনের বেতন দেয়। আমাদের কোন নোটিশ না দিয়া ছাঁটাই করা হইছে। আজকে শুনি আমার চাকুরি নাই। ওভার টাইম করতে হয় আর তারা বলে কাজ নাই।’

কারখানার আরেক শ্রমিক নাজমা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর ধরে হেলপার হিসেবে কাজ করি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছিলাম। ছুটি শেষে সকালে কারখানায় ঢুকছি কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার আইডি কার্ড নিয়া গেছে, চাকুরি নাই কইয়া কইছে মোবাইলে মেসেজ দেখনে গা। বাসায় গিয়া মোবাইলে দেখি কোন মেসেজ নাই।’

শ্রমিক নেতারা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। তবে এধরণের ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ২১ ধারা অনুসারে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদেরকে পরবর্তিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন স্বাপেক্ষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেয়া হবে সেটির নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি বলে জানান তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান কি হবে সেটি নিয়ে ভাবা দরকার ছিল। অন্যান্য সেক্টরে যতো সময় যাবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক দক্ষ হয়ে উঠবেন তার চাকুরির নিশ্চয়তা ততো বেশি। তবে গার্মেন্টস সেক্টরে এর উল্টোটা হয়। এছাড়া যাদের ইনক্রিমেন্ট এবং গ্রেড বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বেড়ে যায় তাদের ছাঁটাই করা হয়।

পিএনএস /এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন