ফের রণক্ষেত্র ভাঙ্গা, পুলিশসহ আহত অর্ধশত

  01-07-2026 06:43PM

পিএনএস ডেস্ক : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রতিপক্ষের গুলিতে সুমন শেখ (২০) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দুই গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অর্ধশত জন আহত হন। এই ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে সুমন শেখের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান। নিহত সুমন ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব সদরদি গ্রামের মিলন শেখ ওরফে মিলন বাবুর্চির ছেলে। ভাঙ্গা দক্ষিণ পার বাসস্ট্যান্ডে তাঁর একটি ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে।

সন্ধ্যায় ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গোলচত্বর এলাকায় সুমন নিহত হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা দক্ষিণ পাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে আরও তিন গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যান চলাচল।

বুধবার সকাল ১০ টা থেকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ থাকার পর ভাঙ্গা থানার পুলিশ এসে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলে আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়। এরমধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে লাগাতার আন্দোলন করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েক যুবকের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল মাতুব্বর নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ভাঙ্গা দক্ষিণ পাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তিন যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তর পাড় হাসামদিয়া এলাকায়। খবর পেয়ে সুমন শেখসহ আরও কয়েকজন সেখানে যান। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। তখন অতর্কিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

গোলাগুলির খবরে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তাঁদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও এতে অংশ নেন। এ সময় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ৩০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে প্রথমে ব্যর্থ হয়। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মুখের চোয়ালের দিকে গুলিসদৃশ বস্তু ভেদ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ধারণামতে, সেটি শটগানের গুলি হতে পারে। যার ফলে তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।

নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই জিহাদ শেখ মোবাইলে বলেন, ফরিদপুর মেডিকেলে না নিয়ে আমরা দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু ওরে বাঁচানো যায়নি। এখানে আনার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এই সংঘর্ষের ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিএনএস /এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন