পাউবো’তে ডিপিএম-এর নামে হচ্ছেটা কি? (পর্ব-২)

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের কাছে আস্থার প্রতীক। সশস্ত্র বাহিনীকে যে দায়িত্বই প্রদান করা হয় সেই দায়িত্বই তাঁরা যথাযথভাবে পালন করে থাকে। নিকট অতীতে নয়নাভিরাম হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তাঁদের প্রতি জনগণের আস্থাকে আরো মজবুত করেছে। দেশের কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যেখানেই দুর্যোগ ও সমস্যা সেখানেই সশস্ত্র বাহিনী আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অসহায় জনগণ সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ ভাবে ভরসা করে থাকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেন প্রকল্পের কাজ যখন একদম থেমে গিয়েছিল তখন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীই তা বাস্তবায়ন করে জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এভাবে যেখানেই সেনাবাহিনী কাজ করেছে সেখানেই সাফল্য এসেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক প্রকল্পই সশস্ত্র বাহিনী অতি সাফল্যের সাথে বাস্তবায়ন করে দেশ ও জাতির খেদমতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বেশ কিছু প্রকল্পে নিয়োজিত সাব-কন্ট্রাক্টর যথা সময়ে কাজ শুরু না করায় বা ঝুলিয়ে রাখায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পাউবো’র ৭/৮ টি প্রকল্প একেবারেই রুগ্ন হয়ে পড়েছে যা ডিপিএম-এর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে অনেকগুলোই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। জনস্বার্থে এই প্রকল্প গুলো প্রকল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে।

সূত্র মতে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অযৌক্তিকভাবে ডিপিএম-এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেকটা লেজে-গোবরে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ‘ডিপিএম মাস্টার’বলে পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদার একটির পর একটি কাজ নিয়ে সেগুলো আর বাস্তবায়ন করছে না। কাজগুলো ঝুলে আছে। পাউবো’র মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং প্রধান প্রকৌশলীরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেও উপর মহলের আর্শীবাদ থাকায় এই সমস্ত সাব-কন্ট্রাক্টরদেরকে কিছু বলার সাহসও করছে না। এই সমস্ত সাব-কন্ট্রাক্টরদের কাজের মান নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারছে না। এই সমস্ত কাজে অনেক সময় সিপিটিইউ-এর নীতিমালাও লঙ্ঘিত হচ্ছে।

অভিজ্ঞমহলের মতে, ডিপিএম প্রথা অবশ্যই থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তবে এই প্রথার আওতায় নিয়োজিত সাব-কন্ট্রাক্টর সংশ্লিষ্ট কাজ করার যোগ্য কিনা তা যথাযথ ভাবে যাচাই করা জরুরী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, সাব-কন্ট্রাক্টর আরো কতোগুলো কাজ করছেন এবং তা যথা সময়ে সম্পাদনে সক্ষম কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। নিয়োজিত সাব-কন্ট্রাক্টরের সংশ্লিষ্ট কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কিনা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সরাসরি সংস্থান রয়েছে কিনা তাও যাচাই করা জরুরী।

আমরা মনে করি, ডিপিএম-এর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতি নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জরুরী ভিত্তিতে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করতে পারে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ভাবমূর্তি সংরক্ষণে এটা জরুরী হয়ে পড়েছে। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech